‘ছলে-বলে-কৌশলে’ বিজেপির বঙ্গ বিজয়?
কলকাতার ভাগীরথীর ঢেউ যেন আছড়ে পড়লো ওয়াশিংটন ডিসির পটোম্যাকের তীরে! খাস মার্কিন মুলুকের খোদ রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির একটি আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রভাব যেন অনুভূত হলো হোয়াইট হাউসের সদাব্যস্ত চত্বরে। সুদূর ওভাল অফিস থেকে নয়াদিল্লিতে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো হলো মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ‘ঐতিহাসিক’ বিজয়কে কেন্দ্র করে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় বিশ্লেষণ করলে এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলটির ‘হিংসাত্মক’ রূপ আরও নির্মমভাবে ধরা পড়ে যায় বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। তাদের মতে, ‘চাণক্যনীতি’ চর্চার নামে বিজেপির ‘নীতিহীনতা’ আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
তারা আরও মনে করেন, বঙ্গ বিজয়ের জন্য ‘ছল-বল-কৌশল’ শুধু নয় ‘অরাজকতার’ জন্ম দিতেও পিছপা হয়নি নরেন্দ্র মোদির দল।
লজ্জাহীন কূট-কৌশলের পথও বেছে নিতে দ্বিধা করেনি বিজেপি। সভ্য সমাজের সব আইনি ভেদ উপেক্ষা করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের প্রতি ক্রমাগত ঘৃণা ছড়ানো এই দলটিকে এখনো পর্যন্ত কোনো জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়নি।
উল্টো আবির-পাপড়ি-শঙ্খ-ঢোলে বরণ করে নেওয়া হয়েছে ক্রমাগত ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত বিজেপির বিজয়ী বিধায়কদের।
পৃথিবীর যেকোনো দেশেই ধর্মীয়-জাতিগত বা ভাষাগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা সর্বজনীন মানবাধিকারের অংশ। সমালোচকদের ভাষ্য: ভারতের মতো ‘সর্ববৃহৎ’ গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্র যেন ক্রমশ সংখ্যাগরিষ্ঠের ‘দুঃশাসনে’ রূপ নিচ্ছে। গণতন্ত্রের আবরণে দেশটিতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ ৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিম্নমুখী। সরকার দেশটির ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সহ্য করে যাচ্ছে।
খ্রিষ্টান, মুসলিম ও দলিতসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে আইন জোরদার করছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে আসছে।
গত ৪ মে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৪ সালে মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বিজেপি রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
দলটি ধর্মনিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার রাজনৈতিক লক্ষ্য হাতে নিয়েছে বলেও এতে জানানো হয়।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির হাত ধরে বহু ভাষিক, বহু জাতিক ও বহু মতের দেশ থেকে ভারত এক মতের বা শুধু ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দেশটির নির্বাচনী মানচিত্র থেকে বহু রং উধাও হয়ে যাচ্ছে। এখানে এক রঙ তথা গেরুয়ায় বিলীন হওয়ার উদ্দাম আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।
২০২৬ সালে ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমবঙ্গে সাম্যবাদী মানুষ যে বিজেপিকে ‘বিজয়ী’ দেখলো সে দলটির গায়ে গুজরাট দাঙ্গার কলঙ্ক লেগে আছে। শুধু মুসলিম বিরোধিতাই নয়, নিজেদের ‘সর্বভারতীয়’ দাবি করা এই দলটির বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান ও দলিত দমনের যে ঘোরতর অভিযোগ আছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও জানাচ্ছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ‘ভারত: ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমালোচকদের বেআইনিভাবে হামলার লক্ষ্য করছে’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি: ভারত সরকারের উচিত বৈষম্যমূলক নীতির অবসান ঘটানো।
বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, মুসলমান, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বেআইনি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুবিচার নিশ্চিত করা দরকার বলেও প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়েছে।
উগ্রবাদী নীতি ও জনতোষণ বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি ভারতের কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠন করলেও দেশটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ‘ছবি’ ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে—মন্তব্য বিশ্লেষকদের একাংশের।
বঙ্গ বিজয়ে বিজেপির ‘ছল-বল-কৌশল’
চরম হিন্দু্ত্ববাদীতার ঝাণ্ডা নিয়ে দিল্লির মসনদ জয়ের পর তথা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে হাজারো মানুষ হত্যায় দায় থেকে নিজেকে ‘মুক্ত’ করে নেন।
তবে, বিবেকবান মানুষ গুজরাট দাঙ্গার প্রায় সিকি শতাব্দী পরও মোদির হাতে নিষ্পাপ মানুষের রক্ত দেখতে পান।
১৯৯২ সালে এই বিজেপি অযোধ্যায় প্রায় ৫০০ বছর পুরোনো বাবরি মসজিদ ভেঙে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুড়িয়ে দেওয়ার মতো গর্হিত কাজ করে। এটি ভারতের আইনেও অপরাধ। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের জোরে বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল। সমস্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ‘গঙ্গায়’ ফেলে দেওয়ার কথাও বলেছিল দলটি।
সমালোচকরা বলছেন, ভারতে ধর্মীয় ভাবাবেগের জোরে ভেসে যাচ্ছে যুক্তি। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ভোটবাক্সে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে জন্ম নিচ্ছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ‘অধিকার’। গণতন্ত্র রূপ নিয়েছে এক ব্যক্তির চাপিয়ে দেওয়ার শাসনের।
অসাম্প্রদায়িক পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ে বিজেপি-সমর্থকদের খুশির সীমা নেই। তবে বিজেপিবিরোধীদের অনেকে ‘রাবণের সীতা হরণ’ প্রসঙ্গটি সামনে আনছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক ‘ভণ্ডামি’কে রাবণের ভিখারির বেশের সঙ্গে তুলনা করছেন কেউ কেউ।
তাদের আশা, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নরেন্দ্র মোদির বাঙালি সাজার ‘ছল’ আপাতদৃষ্টিতে সফল হলেও অচিরেই এই দলের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভুল ভাঙবে।
বিজেপির নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ বা ইশতেহারে বলা হয়েছে—ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, আগামী ৫ বছরে এক কোটি মানুষের জন্য চাকরি, নারীদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা সহায়তা, ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন ইত্যাদি।
বিশ্লেষকদের একাংশের বিশ্বাস—হিন্দি-বলয়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ‘ধোঁকা’ দিয়েছে।
তাদের ভাষ্য—বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ‘গো-ঘরানার’ বিজেপির বাঙালি হয়ে উঠার এক ‘ছল’ বা স্ট্যান্টবাজি দেখেছে বঙ্গবাসী। ‘বঙ্কিমদা’ বলে ‘আনন্দমঠের’ অনুসারী বিজেপির প্রধানমুখ অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। এমন আরও অনেক উদাহরণ আছে। এই তালিকায় পড়েছেন বিশ্বকবিও।
নির্বাচনে বিজেপির গলায় মাছের ‘কাঁটা’ও বিঁধতেও দেখেছে বঙ্গবাসী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সেই সংবাদ শিরোনাম হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে গত ২৯ এপ্রিল জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক ভিডিও সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছিল—‘পশ্চিমবঙ্গে লড়াইটা কি বাঙালি জাতীয়তাবাদ বনাম হিন্দুত্ববাদ?’
প্রায় ৪৩ মিনিটের ভিডিও প্রতিবেদনটির সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ছিল: ‘বাঙালিত্ব বনাম হিন্দুত্ব’।
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন—বিজেপিকে ‘বাঙালি’ হিসেবে দেখার ‘মোহ’ ভাঙতে বঙ্গবাসীর বেশি সময় লাগবে না।
অচিরেই বিজেপির মোদিকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভিখারিবেশী ‘রাবণ’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করবে বলেও মনে করছেন তারা।
ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত—বিজেপি হিন্দু ধর্ম ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাবাবেগকে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের মধ্যে ‘হিন্দুত্ব’ জাগিয়ে তোলার চেষ্টার পাশাপাশি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাকে ক্রমাগত ‘অস্বীকার’ ও ‘অবমাননা’ করছে।
বিজেপি নেতারা এখন প্রকাশ্যে বহু জাতি-ধর্মের ভারতকে ‘হিন্দুরাষ্ট্রে’ পরিণত করার আহবান জানিয়ে আসছেন। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে ভারতে ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছেন।
এসবই বিজেপির ‘ছল’ বলে মনে করছেন সাম্প্রতিক সম্প্রীতির পক্ষের মানুষজন।
প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমানের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের রক্ষার ডাক দিয়েছে বিজেপি। রাজ্যটির প্রায় ৭০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে একত্রিত করতে দলটি পশ্চিমবঙ্গে ‘কোটি কোটি টাকা’ বিভিন্ন কায়দায় খরচ করেছে, বলেও অভিযোগ সমালোচকদের।
তারা আরও বলছেন—কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ও ভারতবর্ষে অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়া বিজেপি বঙ্গ বিজয়কে ‘মান’ রক্ষার বিষয় করে নিয়েছিল। তারা প্রচারণায় সর্বশক্তি নিয়োগ ও জেতার জন্য সব ধরনের বল প্রয়োগ করেছিল।
নির্বাচনে জেতার জন্য একটি সর্বভারতীয় দল হয়েও বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের একটি আঞ্চলিক দল তথা তৃণমূলের বিরুদ্ধে তুলনামূলক অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করেছিল বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে।
রাজনৈতিক বল প্রয়োগের পাশাপাশি প্রশাসনিক বল প্রয়োগের প্রসঙ্গটিও তুলে ধরছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
গত ৬ মে পশ্চিমবঙ্গের বহুল প্রচারিত বর্তমান পত্রিকা একটি সংবাদের শিরোনাম করে—‘কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা ৬ মাস ধরে জোগাড় করেন তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের ইতিবৃত্ত! টের পায়নি রাজ্য সরকার।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ মাস ধরে রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা ঘুরে বেড়িয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের স্পেশাল টিম ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
এ সংবাদটির মাধ্যমে এ সত্যটিও সামনে এসেছে যে—কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তথা খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশাসন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি’ অভিযান চালিয়েছিল। যে কাজ সারা বছর ধরে করার কথা, তা হয়েছে নির্বাচনের আগে। অর্থাৎ, নির্বাচনকে সামনে রেখে।
বিজেপি-সমর্থকরা এই ‘শুদ্ধি’ অভিযানকে সাধুবাদ জানাতে পারেন কিন্তু, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এটি কতটা ভূমিকা রেখেছিল তা নিয়েও চিন্তা করা জরুরি বলে মনে করেন সুধীজনেরা।
তাদের মতে, ক্ষমতার জোরে নির্বাচন প্রভাবিত করলে প্রকৃত গণতন্ত্র হারিয়ে যায়।
গত ৫ মে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়—অনেকে বলছেন ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআরে বিচারাধীন নাম আছে প্রায় ২৭ লাখ। বিজেপি-তৃণমূলের ভোটের ফারাক ১৩ লাখের মতো। এটি বিজেপির বিজয়ে মোটামুটিভাবে প্রভাব ফেলেছে বলেও প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়।
গত ৮ এপ্রিল আনন্দবাজার শিরোনাম করেছিল—‘পদ্মের খাতায় গোপন গণিত! ১ লাখ ৯২ হাজার ভোট ঘুরলেই ৫৮ আসন কমবে তৃণমূলের! দাবি দলের অভ্যন্তরীণ হিসাবে।’
এমন বাস্তবতায় বিজেপি ভোটার তালিকা নিয়ে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
গত কয়েকদিন ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ নিয়ে ‘চুলচেরা’ বিশ্লেষণ করলেও নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিজেপির কূট-কৌশল ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগ এমনকি রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে অনেকটাই নীরব।
পরাজিতের সব দোষ বেশ স্বচ্ছন্দে সামনে আনা যায়। পরাজিতের সমালোচনা করাও অনেক সহজ। কেননা, পরাজিতের কিছু বলা বা করার ক্ষমতা থাকে না।
কিন্তু, বিজয়ী বা ক্ষমতার মসনদে বসতে যাওয়া ব্যক্তি বা দলের ভুল-ক্রটি অধিকাংশ মানুষ এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন। কেননা, ক্ষমতা বলে কথা।
তবে ইতিহাস বড়ই নির্মম। বিজেপির এই ‘অভাবিত বিজয়’ কালের আবর্তে ‘অন্যায় বিজয়’ হিসেবে কোনোদিন গণ্য হলে সেদিন অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেও মত দেন বিজেপিবিরোধী অনেকে।





