টিভিকে ১১৮ আসন না পেলে অভিনেতা বিজয়ের সামনে বিকল্প কী?
অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া সি. জোসেফ বিজয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক দেখিয়ে চলেছেন। তার দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগম (টিভিকে) এককভাবে বৃহত্তম দলগুলোর একটি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত গণনা করা ভোটে ১১১টি আসনে টিভিকে এগিয়ে ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। টিভিকে সেই সংখ্যা ছুঁতে পারবে কি না, তা জানতে ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিভিকে বর্তমানে ১১১ আসনে এগিয়ে থাকলেও আরও ৬৭টি আসনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি আসনে ব্যবধান ১ হাজার ভোটের কম। এসব আসন তাদের পক্ষে এলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, যে ১১১ আসনে তারা এগিয়ে আছে, তার মধ্যে ১৩টিতে ব্যবধান ১ হাজার ভোটের কম। ফলে সেগুলোর কিছু হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।
টিভিকে এই নির্বাচনে জোট ছাড়াই অংশ নিয়েছে। তাই প্রয়োজন হলে সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের দিকে তাকাতে হতে পারে টিভিকে-কে। বিশেষ করে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স বা এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের ছোট দলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ড. অনবুমানি রামদোসের নেতৃত্বাধীন পট্টালি মাক্কাল কাছি (পিএমকে) পাঁচটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দ্য হিন্দু জানায়, এই দলটি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ হতে পারে।
২০০৬ সালের ঝুলন্ত বিধানসভায় পিএমকে মন্ত্রিসভায় না গিয়েও ডিএমকেকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে তখন তাদের মধ্যে নির্বাচনী জোট ছিল, যা এবার নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আদর্শগত বড় কোনো দ্বন্দ্ব না থাকায় পিএমকের জন্য এনডিএ ছেড়ে টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়া কঠিন হবে না।
এদিকে চারটি আসনে এগিয়ে থাকা কংগ্রেসও সম্ভাব্য সমর্থক হতে পারে। নির্বাচনের আগে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের দলের ভেতরে চাপ ছিল, যা ডিএমকের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। কিছু নেতা টিভিকে-কে সম্ভাব্য মিত্র হিসেবেও দেখছিলেন। ফলে প্রয়োজন হলে তারা অবস্থান বদলাতে পারেন।
এছাড়া আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্র কাজাগম এবং দেশিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজাগমও টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। তবে প্রতিটি দলই মাত্র একটি করে আসনে এগিয়ে থাকায় তাদের প্রভাব সীমিত।
অন্যদিকে, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছি, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া এবং সিপিআই (এম)—প্রতিটি দল দুটি করে আসনে এগিয়ে থাকলেও তাদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে পিএমকে ও কংগ্রেসের উপস্থিতি বাম দলগুলোর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, টিভিকে-র প্রথম রাজ্য সম্মেলনে বিজয় ঘোষণা করেছিলেন, যেকোনো দল জোট করলে তিনি ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত। তখন কেউ সাড়া না দিলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই মিত্র বেছে নেওয়ার অবস্থানে আছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে ভোট গণনার চূড়ান্ত ফলের ওপর, যেখানে কয়েকটি আসনের অল্প ব্যবধানই বদলে দিতে পারে পুরো চিত্র।


