মোটরসাইকেলের ‘ফুয়েল পাস’ নিবন্ধন করবেন যেভাবে, সুবিধা ও সমস্যা কী
রাজধানীতে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ চালু করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করেছে।
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট fuelpass.gov.bd অথবা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে গুগল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করা যায়।
নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি কিউআর কোড পাওয়া যাবে, যা নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি পেতে প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে এই ফুয়েল পাস ব্যবস্থাটি শুধু মোটরসাইকেলের জন্য প্রযোজ্য। নিবন্ধনের জন্য ব্যবহারকারীর যানবাহনের বিস্তারিত তথ্য (চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর) এবং যানবাহন নিবন্ধনের সময় ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর দিতে হয়।

যেভাবে নিবন্ধন
* অফিসিয়াল ওয়েবসাইট fuelpass.gov.bd-তে যান।
* রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করুন।
* যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন তথ্য দিন। এ তথ্য বিআরটিএর কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
* বিআরটিএ-নিবন্ধিত যানবাহনের চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর দিন।
* যান নিবন্ধনের সময় ব্যবহৃত এনআইডি নম্বরটি দিন।
* নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপির মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
* যাচাইকরণ সফল হলে একটি কিউআর কোড তৈরি হবে।
* পাম্পে ব্যবহারের জন্য কিউআর কোডটি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে রাখুন।
* পাম্পে কোডটি স্ক্যান করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানি নিন।
বিপিসির চালু করা এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়াকে সহজ করা, দীর্ঘ লাইন কমানো এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা রোধ করা।
বর্তমানে রাজধানীর শুরু দুটি ফিলিং স্টেশনে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এগুলো হলো—বিজয় সরণি মোড়ে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদ গেট মোড়ে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন।
তবে ফেসবুকে ট্রাফিক অ্যালার্ট ও ফুয়েল আপডেট সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রুপে দেখা গেছে, ফুয়েল পাসধারীদের জন্য এখনো আলাদা লাইনের ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
ফুয়েল পাসধারীরা বর্তমানে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার বা ১ হাজার ২০০ টাকার জ্বালানি তেল নিতে পারবে।
অন্যদিকে, পাস নেই এমন মোটরসাইকেলে সাধারণত সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।
পাম্প সূত্র জানিয়েছে, দুই ফিলিং স্টেশনেই মোটরসাইকেলের জন্য সিঙ্গেল-নজেল মেশিন ব্যবহার করায় পাসধারী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা লাইন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে সোনার বাংলা পাম্প কর্তৃপক্ষ দ্রুতই শুধু ফুয়েল পাসধারীদের তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেক্ষেত্রে পাস ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল সেখানে তেল নিতে পারবে না। যদিও এ সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ব্যবহারকারীরা বলছেন, ফুয়েল পাস থাকলেও পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেককে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে কিছু ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকে সোনার বাংলা পাম্পে পাসধারীদের জন্য আলাদা লাইন চালু করা হয়েছে।
নিবন্ধন করতে গিয়েও অনেকে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক বাইকারের তথ্য বিআরটিএ সার্ভার থেকে লোড হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাস্ট এনার্জির সহকারী পরিচালক মেজর (অব.) আবুল আলা মুহাম্মদ তৌহিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফুয়েল পাস সিস্টেমটি বর্তমানে একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমরা নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই।'
উল্লেখ্য, প্রাইভেটকার ব্যবহারকারীদের জন্য এখনো ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়নি।


