মে পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুদ আছে: জ্বালানি বিভাগ
চলতি এপ্রিল ও আগামী মে মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
আজ বুধবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম-সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, 'বিকল্প সব উৎস কাজে লাগাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছি। এর ফলে সরকার এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারছে যে, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য ডিজেলসহ পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।'
মনির হোসেন আরও বলেন, 'চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহে নতুন মোড় নিতে পারে। যদি তেমন কিছু হয়, তাহলে সরকার সে অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেবে জানাবে। তবে এ মুহূর্তে আমরা বলছি যে, আমাদের মজুদ পর্যাপ্ত।'
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুদ আছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ টন।
এছাড়া, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রল ১৮ হাজার ২১১ টন, ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন ও জেট ফুয়েল মজুত আছে ১৮ হাজার ২২৩ টন।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র জানান, গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুদ করা প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে।
মজুদদারদের ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ৪৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জব্দকৃত জ্বালানির মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৬৬ হাজার লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার, পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার ও ফার্নেস অয়েল ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
মনির হোসেন বলেন, 'দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বর্তমানে "ডেডস্টক" ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে চললেও, পরবর্তী ক্রুড অয়েলের চালান না আসা পর্যন্ত এটি সচল রাখা হবে।'
তিনি জানান, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবে। এটি ২ মে নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে। জাহাজটি লোহিত সাগর হয়ে একটি বিকল্প রুটে আসবে।
জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে যুগ্ম-সচিব বলেন, 'ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ দেশে পর্যাপ্ত পরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সরবরাহ ব্যবস্থায় ইস্টার্ন রিফাইনারির অবদান মাত্র এক-পঞ্চমাংশ। বর্তমানে ডেডস্টক ব্যবহার করে চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি সচল রাখা হয়েছে। আর এর মধ্যে আমরা বাকি ইউনিটগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছি।'
তবে, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি তেল কেনাকাটা বা মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই বলেও জোর দেন তিনি।
মনির হোসেন বলেন, '২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে যানবাহনের সংখ্যা বাড়েনি। এর আগে সরবরাহ যেমন ছিল, এখনো ঠিক তাই দিচ্ছি। তা সত্ত্বেও কেন আতঙ্কিত হয়ে মানুষ তেল কিনে নিচ্ছে তা উদ্বেগের বিষয়।'