এক্সপ্লেইনার

কী আছে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইনে, কেন সংশোধন প্রয়োজন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

শান্ত দিঘির ঘাটে এক ভয়ংকর দৃশ্যের সাক্ষী হলো বাগেরহাট। বারবার চেষ্টা করেও পানির নিচের আংশিক ডুবে থাকা সিঁড়ি থেকে ওপরে উঠতে পারছিল না একটি কুকুর। ঠিক তখনই কুকুরটিকে টেনে নিয়ে যায় একটি কুমির।

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারের দিঘির ঘাটের সাম্প্রতিক এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

কুমিরের কামড়ে মারা যাওয়ার পর কুকুরটিকে গত বুধবার কবর দেওয়া হলেও বিতর্কের মুখে বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয় বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। পাশাপাশি কুকুরটি কোনো রোগে আক্রান্ত ছিল কি না, তা জানতে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বাগেরহাট থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রাণীর ওপর চলমান নিষ্ঠুরতা বন্ধে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। এতে প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ সংশোধন করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কী আছে প্রাণী কল্যাণ আইনে

২০১৯ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে পাস হয় ‘প্রাণী কল্যাণ বিল- ২০১৯’। ১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইনটি বাতিল করে আধুনিক এই আইনটি কার্যকর করা হয়। এই আইনে মানুষ ও মাছ ব্যতীত প্রায় সব ধরনের স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও জলজ প্রাণীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আইনে প্রত্যেক প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই অংশে বলা হয়েছে— যৌক্তিক কারণ ব্যতীত, ওই প্রাণীর প্রতি কল্যাণকর ও মানবিক আচরণ করা এবং নিষ্ঠুর আচরণ করা থেকে বিরত থাকা।

আইন অনুযায়ী, প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণ বলতে কোনো ব্যক্তির এমন আচরণ বা কাজকে বোঝাবে, যা প্রাণীর জন্য অকল্যাণকর।

যদি কোনো কাজ বা কাজ থেকে বিরত থাকা প্রাণীর অসুস্থতার কারণ হয়, প্রাণীকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রহার করা হয়, কিংবা প্রাণীকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাদ্য ও পানি দেওয়া না হয় অথবা অতিরিক্ত খাদ্য এবং পানি গ্রহণে জবরদস্তি করা হয়, তবে তা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে।

প্রাণীকে এমনভাবে বেঁধে রাখা, আবদ্ধ করা বা পরিবহন করা হলে, যাতে সে তার স্বাভাবিক প্রকৃতি অনুযায়ী দাঁড়াতে, বসতে বা শুয়ে থাকতে না পারে, তা নিষ্ঠুরতার অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে, নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কোনো প্রাণীকে ধারালো ধাতব বস্তু দিয়ে প্রহার বা আঘাত করাও নিষ্ঠুর আচরণ।

প্রাণী কল্যাণ
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

অন্যদিকে, অসুস্থ অবস্থায় বা মৃত্যু ঘটানোর জন্য কোনো প্রাণীকে লোকালয়ে মুক্ত করে দেওয়া এবং কোনো প্রাণীকে লড়াই করার জন্য প্ররোচিত করা বা টোপ হিসাবে ব্যবহার করা বা উত্ত্যক্ত করা এই আইনের অধীনে অপরাধ।

ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অকারণে প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর বা প্রয়োগযোগ্য নয় এমন কোনো ওষুধ বা পদার্থ সেবন করানো বা ইনজেকশনের মাধ্যমে বা পায়ুপথ বা জননাঙ্গের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করানো বা করানোর চেষ্টা করা নিষ্ঠুর আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কুকুরকে শরীরচর্চার জন্য কোনো প্রকার চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে একটানা ২৪ ঘণ্টা বা ততোধিক সময় বেঁধে রাখা বা আটকে রাখা এবং রাইফেল শুটিং বা তীর ছোড়া প্রতিযোগিতায় কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু হিসাবে ব্যবহার করা বা করার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়াও নিষ্ঠুরতা।

আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আরও বলা হয়েছে যে, অঙ্গহানিজনিত অথবা ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা অন্য কোনো নিষ্ঠুরতার কারণে ব্যথাভোগকারী প্রাণীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অর্পণ করাও নিষ্ঠুরতা। কোনো প্রাণীকে গৃহে আটক রেখে এবং অন্য কারো তত্ত্বাবধানে না রেখে উক্ত প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর অপ্রয়োজনীয় সময়কাল গৃহের বাইরে অবস্থান করাও প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে।

ভেটেরিনারি সার্জন কোনো প্রাণীকে প্রজননের জন্য শারীরিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করার পর ওই প্রাণীকে প্রজনন কাজে ব্যবহার করা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র ব্যতিরেক কোনো প্রাণীকে বিনোদন বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যবহার করাও প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণের অন্তর্ভুক্ত।

উল্লিখিত আচরণ বা কাজ ছাড়াও সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রাণীর প্রতি অন্য কোনো আচরণ বা কার্যকেও প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণ হিসাবে ঘোষণা করতে পারবে। কোনো ব্যক্তি অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণে সহযোগিতা করলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

যদি কোনো প্রাণী নিশ্চিতভাবে জলাতঙ্ক বা অন্য কোনো অনিরাময়যোগ্য ও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়, যা মানুষ বা অন্য প্রাণীতে ছড়াতে পারে, অথবা যা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সরকার বা সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ঘোষণা করে, তাহলে সে ক্ষেত্রে জনস্বার্থে সরকার বা অনুমোদিত কোনো কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যদি ব্যথাহীন ও মানবিক পদ্ধতিতে এবং ওআইই-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই প্রাণীকে নিধন করে, তবে তা নিষ্ঠুর আচরণ হিসেবে গণ্য হবে না।

একইভাবে, কোনো সরকার স্বীকৃত শিক্ষা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করা কার্যক্রমও নিষ্ঠুর আচরণ হিসেবে গণ্য হবে না। খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রাণী জবাইকালে এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উৎসর্গকালে যেকোনো ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি কর্তৃক নিজস্ব ধর্মীয় আচার অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে তা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে না।

এই আইনে উল্লিখিত কোনো কারণ ব্যতীত, মালিকবিহীন কোনো প্রাণী নিধন বা অপসারণ করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি মালিকবিহীন কোনো প্রাণী হত্যা করলে তা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত কোনো প্রাণীকে পরিবহন কাজে বাহক হিসেবে ব্যবহার এবং কোনো প্রাণীর দ্বারা মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন করানো যাবে না। তবে কোনো প্রাণীকে পরিবহন কাজে বাহক হিসাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত ঘোষণা করার পরও উক্ত প্রাণীকে উক্ত কাজে ব্যবহার এবং পরিবহন কাজে কোনো প্রাণী দ্বারা মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল পরিবহন অপরাধ বলে গণ্য হবে।

কোনো ওষুধ বা খাবার বিষাক্ত বা অনিষ্টকর জানা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি যদি কোনো প্রাণীকে বিষাক্ত বা অনিষ্টকর ওষুধ বা খাবার অথবা বিষ মিশ্রিত খাবার খাওয়ান বা বিষ প্রাণীর দেহে প্রয়োগ করেন অথবা অনুরূপ কাজ করার চেষ্টা করেন বা করতে সহায়তা করেন, যার ফলে প্রাণীর মৃত্যু বা স্থায়ী অঙ্গহানি হয় অথবা স্বাভাবিক আকার ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রাণীকে দৈহিক কলাকৌশল প্রদর্শনের জন্য প্রশিক্ষণ বা দৈহিক কসরত প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ও কোস্টগার্ডের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয়।

বিধি নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন নেওয়া ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পোষা প্রাণী উৎপাদন এবং উক্ত উদ্দেশ্যে কোনো খামার স্থাপন এবং পরিচালনা করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন নিবন্ধন ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পোষা প্রাণী উৎপাদন খামার পরিচালনা করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

pet law
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

কোনো প্রাণী সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, কর্তৃপক্ষের কাছে এমন প্রতীয়মান হলে অথবা এমন সংবাদ পেলে এই সংকট প্রশমিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অথবা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীকে নির্দেশ দেওয়া যাবে অথবা সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য, ক্ষেত্রমতো, থানা, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে পারবে।

অপরাধের শিকার বা সংকটাপন্ন প্রাণীকে উদ্ধার ও জব্দ করার পূর্ণ এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। উদ্ধারকৃত প্রাণীকে সুচিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ, আগ্রহী ব্যক্তির জিম্মায় প্রদান, বিক্রয় কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানোর সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নিতে পারবে। প্রাণীর চিকিৎসা ও ভরণপোষণের যাবতীয় ব্যয়ভার মালিককে বহন করতে হবে; তবে মালিককে পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় সরকার এই ব্যয় নির্বাহ করবে।

শাস্তি

এই আইনের অধীন ধারা-উপধারা ভেদে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সীমাবদ্ধতা

আইনজীবীরা জানান, প্রাণীকল্যাণ আইন ২০১৯ আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হলেও এর প্রয়োগে অনেকক্ষেত্রেই রয়েছে সীমাবদ্ধতা।

আইন অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করবেন না।

অথচ, আইনে ‘কর্তৃপক্ষ’ অর্থ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অধিদপ্তরের কোনো ভেটেরিনারি সার্জনের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, আইনে থাকলেও এখনো 'অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড' গঠিত না হওয়া একটি বড় ঘাটতি। এর ফলে মামলার এখতিয়ার বা অভিযোগের স্থান নিয়ে অস্পষ্টতা থেকে যায়।

পাশাপাশি, একই ঘটনায় পেনাল কোডসহ একাধিক আইনি কাঠামো থাকায় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ক্ষেত্রে সঠিক আইনগত পথ নির্ধারণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

কেন সংশোধন প্রয়োজন

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়িয়ে এই অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করেন আইনজীবীরা।

আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ারের আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে ওয়ারেন্ট ছাড়া প্রাণীর প্রতি নিগ্রহের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে পারে না পুলিশ।

অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে একে 'আমলযোগ্য অপরাধ' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি   দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা এমন একটি অবস্থায় আছি যখন আমাদের প্রিয় পোষা প্রাণীদের অধিকার রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে আমরা ২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইন দিয়ে চলছি, যা প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মোটেও যুগোপযোগী নয়।'

'বড় আইনি সংকট হলো, কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখলে আমরা সাধারণ নাগরিকরা সরাসরি মামলা করতে পারি না। আমাদের কর্তৃপক্ষের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। এমনকি প্রিয় পোষা প্রাণীটি হারিয়ে গেলে থানায় জিডি করতে কিংবা নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে গেলে আমাদের নানা টালবাহানার শিকার হতে হয়,' বলেন তিনি।

এছাড়া, প্রাণী নিয়ে ভ্রমণ, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কথা উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, 'বিশ্বের অনেকে দেশে পোষা প্রাণী নিয়ে সব জায়গায় যাতায়াতের অবাধ সুযোগ থাকলেও, আমাদের দেশে সুপার শপ, হোটেল বা গণপরিবহনে ওদের নেওয়া যায় না। বিদেশে প্রাণী নিয়ে যেতে চাইলে প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রায় লক্ষাধিক টাকার ব্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়।'

'আমরা চাই আমাদের সন্তানরা রোবটের মতো যান্ত্রিক জীবনে বেড়ে না উঠে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ও প্রাণীদের সঙ্গে মায়া-মমতা নিয়ে বড় হোক। সবাই সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হলে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানুষ ও প্রাণী উভয়েই সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারবে,' বলেন তিনি।