পাখির ডাকে ১০ মিনিটে কমতে পারে মানসিক চাপ!

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ব্যস্ত শহর, ক্লাসের চাপ, পরীক্ষা, ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগ সব মিলিয়ে মানসিক চাপ এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও মানসিক অবসাদের হার বাড়ছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, এই চাপ কমাতে প্রকৃতি হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান।

তারা বলছেন, পাখির ডাক মাত্র ১০ মিনিটেই মনকে অনেকটা শান্ত করে দিতে পারে।

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্টাল কনসারভেশন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সবুজ পরিবেশ না থাকলেও কেবল পাখির ডাক শোনার মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সবুজ পরিবেশ না থাকলেও কেবল পাখির ডাক শোনার মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত

অনেক আগেই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকলে মানুষের মানসিক চাপ কমে, মন ভালো হয় ও মনোযোগ বাড়ে। কিন্তু প্রশ্ন ছিল, এই ইতিবাচক প্রভাবের পেছনে বেশি ভূমিকা রাখে কোনটি—সবুজ পরিবেশ নাকি প্রকৃতির শব্দ?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিলস পিটারসন ও তার গবেষক দল একটি পরীক্ষা চালান।

গবেষণায় ১০৬ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রত্যেককে দুটি ভিন্ন পরিবেশে ১০ মিনিট করে বসতে বলা হয়।

একটি ছিল গাছপালায় ঘেরা ছোট বনাঞ্চল। অন্যটি ছিল ভবন ও সড়কবেষ্টিত কংক্রিটের খোলা চত্বর।

অংশগ্রহণকারীরা নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন পরে বসেছিলেন। হেডফোনে কখনো শোনানো হয়েছিল জলাভূমির পাখিদের ডাক, আবার কখনো ব্যস্ত সড়কের যানবাহনের শব্দ। কে কোথায় কোন শব্দ শুনবেন, তা এলোমেলোভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে সম্পূর্ণ মানসিক প্রশান্তি এসেছে তখনই, যখন সবুজ পরিবেশ ও পাখির ডাক দুটিই একসঙ্গে ছিল।
তবে সম্পূর্ণ মানসিক প্রশান্তি এসেছে তখনই, যখন সবুজ পরিবেশ ও পাখির ডাক দুটিই একসঙ্গে ছিল। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণায় দেখা যায়, সবুজ পরিবেশে বসে পাখির ডাক শোনা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থায় সবচেয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাদের ইতিবাচক অনুভূতি বেড়েছিল, আর নেতিবাচক অনুভূতি কমেছিল এবং মানসিক চাপও কমেছিল।

অন্যদিকে, কংক্রিটে ঘেরা পরিবেশে বসে যানবাহনের শব্দ শোনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ ও নেতিবাচক অনুভূতি দেখা গেছে।

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সবুজ পরিবেশ না থাকলেও কেবল পাখির ডাক শোনার মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। অর্থাৎ কংক্রিটের পরিবেশেও পাখির ডাক শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কিছুটা কমিয়েছে।

তবে সম্পূর্ণ মানসিক প্রশান্তি এসেছে তখনই, যখন সবুজ পরিবেশ ও পাখির ডাক দুটিই একসঙ্গে ছিল।

গবেষণায় ব্যবহৃত বনটি কোনো বিশাল প্রাকৃতিক বন ছিল না। এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে গড়ে তোলা ছোট একটি বনাঞ্চল।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনার সময় শুধু ভবন বা সড়ক নয়, মানুষের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনার সময় শুধু ভবন বা সড়ক নয়, মানুষের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ছবি: সংগৃহীত

গবেষকদের মতে, এটিই সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক। অর্থাৎ মানসিক স্বস্তি পেতে বিশাল বনভূমির প্রয়োজন নেই। শহরের ছোট একটি পার্ক, গাছপালায় ঘেরা কোনো কোণা কিংবা পাখির কিচিরমিচির শোনা যায় এমন একটি পরিবেশও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনার সময় শুধু ভবন বা সড়ক নয়, মানুষের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। শহরে আরও বেশি গাছ লাগানো, পাখির আবাস সংরক্ষণ, ছোট ছোট সবুজ এলাকা তৈরি এবং প্রাকৃতিক শব্দের পরিবেশ গড়ে তোলা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রকৃতির মধ্যে কাটানো অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে এই গবেষণা বলছে, মাত্র ১০ মিনিটের জন্যও যদি আপনি গাছপালার কাছে বসতে পারেন, কিংবা পাখির ডাক শুনতে পারেন, তাহলে তা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।