পিৎজা, বার্গার, পোড়া তেলের সমুচা খেয়ে দেশটা রোগে ভরে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শিশুদের বোতল ও প্যাকেটজাত পণ্য এবং ফাস্টফুড খাওয়াতে নিরুৎসাহিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসঙ্গে তিনি ঘরে তৈরি সুষম খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আজ শনিবার সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটা হাইয়েস্ট প্রোটিন। ‘এখন বেবিদের বঞ্চিত করছি। সিজারিয়ানের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। শাল দুধ দেওয়া হয় না।’
হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো ওয়ার্ড তো দেখেছি মিজেলসের। একটা বাচ্চারও গায়ে কোনো পুষ্টি নাই। মায়েদের জিজ্ঞেস করি, বাচ্চাদের ঠিক মতো দুধ খাওয়ান না? বলে আমার স্বাস্থ্য দেখেন না কেমন? নিজেই খেতে পাই না। সরাসরি জবাব দেয়।’
রোগ প্রতিরোধে মনোযোগী না হলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সুষম খাদ্যের অভাব। চিজ দিয়ে পিজা খাই, চিজ দিয়ে বার্গার খাই, পোড়া তেলের সমুচা খাই। এগুলো খেতে খেতে আজকে আমাদের দেশটা রোগে ভরে গেছে।’
নিজের শিশুকালের গল্প বলে তিনি বলেন, ‘এই যে লাইফস্টাইল আমাদের, সেই যে মাতৃ কেয়ার, এটা কিন্তু আজকের দিনে নাই!’
‘আজকে হামের এই অবস্থা কেন? প্রোটিনের অভাব, পুষ্টির অভাব। অল্প বয়সে বিয়ে, অল্প বয়সে বেবি নেওয়া এবং বাচ্চাদেরকে দুধ না দেওয়া। এই বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবসে আমাদের নতুনভাবে শপথ করতে হবে, আমাদের শিশু ও নাগরিকদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমাদেরকে সাংঘাতিকভাবে এই জিনিসটার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল সপ্তাহের সীমায় আটকে থাকলে চলবে না,’ যোগ করেন তিনি।
সাখাওয়াত আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘আমি এমনও দেখেছি, জানি না বললে আপনারা অসন্তুষ্ট হবেন কি না, মেশিন দিয়ে বুকের দুধ ফেলে দেওয়া হয়। কেন? এটা তো আল্লাহ বাচ্চার জন্য দিয়েছে! কর্মক্ষেত্রে যাবে, তাড়াহুড়া। বাচ্চাকে দুধ না দিয়ে চলে যাবে কাজের লোকের কাছে রেখে। এই কেয়ারলেসনেসে একদিন আমরাই কিন্তু ভুগবো। জাতি সাফার করবে।’
তিনি বলেন, ‘বাচ্চা হলে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে এসে অন্য বেডে শোয়ায় দেয়। কেন? আগে তো বাচ্চা হলে মায়ের বুকের কাছে শোয়ায় রাখতো। মায়ের জন্য এটা শান্তির। সন্তানের জন্য ভালোবাসা। ওই শিশু বুঝতো যে, আমি আমার মায়ের পাশে আছি। কী সুন্দর ব্যবস্থা। আজ আর নেই। কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, ঠিক আমাদের মাতৃ শিশু সেবা কিন্তু আজ আর নেই। আমরা মডার্ন হয়ে গেছি। আর সে মডার্নের কারণে যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন এবং রোগীর সংখ্যা দেখেন, ব্রেস্ট ক্যানসার, ওভারি ক্যানসার, ইউটেরাস ক্যানসার, লাঙ ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্নভাবে, থ্যালাসিমিয়া মারাত্মকভাবে আমাদের জাতিকে, আমাদেরকে বিব্রত করছে।’
দাম্পত্য কলহে শিশুদের মানসিক বিকাশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক ও অভিভাবকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মা ডাকলে কোনো কোনো শিশু দৌড়ে ঘরের কোণে চলে যায়; কেউ কথা বললে কোনো কোনো শিশু চোখ বন্ধ করে রাখে; কেউ কেউ মাথা বেশি নাড়ায়; কাউকে পড়তে দিলে বই ছিঁড়ে ফেলে—ইফেক্ট অব ল্যাক অব এফেকশন টু বেবি।