ডেঙ্গুর টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করবে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশে ডেঙ্গু টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে, নাকি টিকা ব্যবহারের আগে বিদ্যমান গবেষণা পর্যালোচনা করা হবে—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করবে সরকার।

আজ মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত গণমাধ্যমেকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে নীতিনির্ধারকরা ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, টিকার অনুমোদন অবশ্যই এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা-সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে দিতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে টিকাটি কতটা কার্যকর হবে, সেটা যাচাই করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কোনো টিকার অনুমোদন দেওয়ার আগে আমাদের বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে টিকাটি কীভাবে কাজ করবে, সেটা বুঝতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞ গবেষকদের সঙ্গে সরকার শিগগির বৈঠক করবে।

বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করতে হবে, নাকি বিদ্যমান পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব, তা নিয়েই ওই বৈঠকে বিশ্লেষণ করা হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু টিকা উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কয়েকটি টিকা বিবেচনাধীন। ভারত সম্প্রতি বেসরকারি খাতে ব্যবহারের জন্য একটি ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন দিয়েছে।

পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া ব্যাপকভাবে টিকা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে যেকোনো টিকার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, কোনো টিকা চলমান ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে বলে মনে হয় না। তবে আগামী বছরগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধে সেটা সহায়তা করতে পারে।

এদিকে, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের মতো প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জাপানি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

সরকার আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন জ্বরের ক্লিনিক স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে মানুষ দ্রুত পরীক্ষা করাতে পারবেন এবং তাদের জ্বর ডেঙ্গুর কারণে হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা যাবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জনগণকে ফার্মেসি বা অযোগ্য চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর না করে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসার মান উন্নত করতে গত মাসে সরকার সারা দেশে প্রায় ২ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পুনঃপ্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তিন বছর আগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে প্রতিটি মৃত্যুই উদ্বেগের বিষয়।

জ্বর হলে চিকিৎসা নিতে দেরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া রোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশের উপসর্গ শুরুর তিন দিনেরও বেশি সময় পর হাসপাতালে পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মেটাতে সরকার ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শিগগির আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।