ক্যানসার চিকিৎসায় দীর্ঘ সারি, খরচে দিশেহারা পরিবার

তুহিন শুভ্র অধিকারী
তুহিন শুভ্র অধিকারী

সেপ্টেম্বরের এক দুপুর। ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিচতলার একটি বেঞ্চে ঝিমুচ্ছিলেন সবুজ মিয়া। ৪২ বছর বয়সী সবুজ মিয়া দেশের একমাত্র সরকারি এই বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপি সেশনের অপেক্ষায় ছিলেন।

পাশে বসে ছিলেন তার স্ত্রী নূরুন্নাহার। ত্রিশের কোঠায় থাকা নূরুন্নাহারের হাতে ছিল একটি ছোট ব্যাগ, আর তার মুখজুড়ে ছিল গভীর দুশ্চিন্তার ছাপ।

রেডিওথেরাপি কক্ষের বাইরে শতাধিক মানুষের ভিড়, যাদের অধিকাংশই রোগী। বসার জায়গার অভাবে অনেকে মেঝেতেই শুয়ে অপেক্ষা করছিলেন—কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ পরামর্শের জন্য, আবার কেউ পরীক্ষার জন্য। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিআরএইচ) এটিই নিত্যদিনের চিত্র।

বাংলাদেশে ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু কত দ্রুত বাড়ছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। ইনস্টিটিউটের ক্যানসার এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক জহিরুল ইসলামের মতে, দেশে জনসংখ্যাভিত্তিক কোনো ক্যানসার রেজিস্ট্রি নেই।

হাসপাতালের নিজস্ব তথ্যে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের চিত্রই ফুটে ওঠে, পুরো দেশের নয়। গত বছর হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৪২ হাজার ৪৯৪ রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে ৩১ হাজার ৪৬ জন নতুন ক্যানসার রোগী।

২০২০ সালে এই বিভাগে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মোট ২৬ হাজার ২০২ ক্যানসার রোগী চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সেই তুলনায়, ২০২৫ সালে শুধু নতুন রোগীর সংখ্যাই প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।

নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ হাসপাতালে আসার পর বিভিন্ন পরীক্ষা করতে হয়। এসব পরীক্ষায় অনেকেরই ক্যানসার ধরা পড়ে। তারা এই মূল তালিকায় (রেজিস্ট্রি) অন্তর্ভুক্ত হন না।

এই পরিসংখ্যান দেখে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন জহিরুল ইসলাম। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এর মানে এই হতে পারে যে, মানুষের সচেতনতা বেড়েছে এবং চিকিৎসা সেবা আগের চেয়ে সহজলভ্য হয়েছে। তবে এও সত্য, প্রকৃতপক্ষে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর সঠিক কারণ জানতে আমাদের একটি পরিপূর্ণ জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন।’

দেশে এমন কোনো গবেষণা না থাকায় বাংলাদেশ মূলত গ্লোবোক্যানের ওপর নির্ভর করে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণা শাখা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার’ প্রকাশিত এক ধরনের প্রাক্কলন। যেহেতু এটি বাংলাদেশের সীমিত কিছু তথ্য এবং অন্য দেশের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এটি সব সময় বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারে না।

তবুও এই তথ্যগুলো বেশ চিন্তার উদ্রেক করে। গ্লোবোক্যানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে নতুন ক্যানসার রোগী ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ জনে—অর্থাৎ প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর হার আরও দ্রুত বেড়েছে; তা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ১৯ শতাংশের বেশি।

গত পাঁচ বছরে ক্যানসার নিয়ে বেঁচে থাকা রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৩ থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। যদিও জহিরুল ইসলাম বলেন, বাস্তবে বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫ লাখ ক্যানসার রোগী রয়েছে, এমনটা বলা হয়ে থাকে।

এজ-স্ট্যান্ডার্ডাইজড ইনসিডেন্স রেট, যা দিয়ে বিভিন্ন দেশের বা সময়ের তুলনামূলক চিত্র পাওয়া যায়—তা ২০২২ সালে ছিল প্রতি লাখে ১০৫ দশমিক ৬ জন, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৭ দশমিক ৫ জনে। অর্থাৎ দুই বছরে বৃদ্ধির হার প্রায় ১১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুধু শ্রীলঙ্কার হারই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ভীতিকর।’

চিকিৎসার খরচ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের রাজমিস্ত্রি সবুজ মিয়ার জীবনটা খুব সাধারণ হলেও মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ১০ মাস আগে হঠাৎ তার গলার স্বর বদলে যায়। কিশোরগঞ্জে চিকিৎসা করেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে।

এরপর তাকে ময়মনসিংহে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় ক্যানসারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার উত্তরায় আহ্ছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে ধরা পড়ে তিনি ট্রাকিয়াল ক্যানসারে আক্রান্ত।

সেখানে দুই রাউন্ড কেমোথেরাপি নিতেই খরচ হয় ১ লাখ টাকার বেশি। এরপর বাড়িতে ফিরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে আরও তিন রাউন্ড কেমোথেরাপি নিতে ব্যয় হয় ৩৬ হাজার টাকা।

চিকিৎসার খরচ বাড়তে থাকায় দিশেহারা পরিবারটি শেষ পর্যন্ত সরকারি ক্যানসার হাসপাতালে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টের চেষ্টা করে। সৌভাগ্যবশত, তিন মাস অপেক্ষার পরই সিরিয়াল পেয়ে যান সবুজ মিয়া।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সবুজ মিয়ার নির্ধারিত ৩৫টি রেডিওথেরাপির মধ্যে ১৫টি সম্পন্ন হয়েছে এবং সাত রাউন্ড কেমোথেরাপির মধ্যে তিনটি দেওয়া হয়েছে। রেডিওথেরাপির এই কোর্সের জন্য পরিবারটির খরচ হয়েছে ৩৭ হাজার টাকা, আর প্রথম রাউন্ড কেমোথেরাপির পর অস্ত্রোপচারের জন্য গুনতে হয়েছে ৬০ হাজার টাকার বেশি। এখন তারা মিরপুর-১৪ নম্বরে ৭ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি বাসা নিয়ে থাকছেন এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন হাসপাতালে যাতায়াত করছেন।

চিকিৎসার খরচ মেটাতে পরিবারটি শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা পেয়েছিল। আর সেই টাকা-ই এখন খরচ করছে। নূরুন্নাহার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে কোথায় থাকব, জানি না।’

নূর আহমেদের গল্পটাও প্রায় একই রকম। পটুয়াখালী সদরের ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বাবুর্চি হিসেবে মাসে ১২ হাজার টাকা বেতন পেতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাড়ের ব্যথায় ভুগছিলেন।

পটুয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েও কোনো সুফল পাননি, বরং জমানো জমি বিক্রি করে চিকিৎসা বাবদ চার লাখ টাকা খুইয়েছেন। চার মাস আগে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা শনাক্ত করেন, তার শরীরের অন্তত চার জায়গায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে।

হাতে টাকা না থাকায় পরিবারটি বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। পরে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা পেয়ে তারা ক্যানসার হাসপাতালে আসেন। সেখানে স্ত্রী রাহেলা বেগমকে নিয়ে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন নূর।

আরেকজন দেড় বছরের শিশু তানিশা। তার বয়সীদের মতোই সে হাঁটে-কথা বলে, তবে একটু খেয়াল করলে দেখা যায় তার একটি চোখ অস্বাভাবিক। চার মাস আগে ঢাকার লায়ন্স হাসপাতালে ক্যানসার ধরা পড়ার পর চিকিৎসকেরা তার বাঁ চোখটি অপসারণ করে সেখানে কৃত্রিম চোখ বসিয়ে দেন।

তার চিকিৎসার পথটিও ছিল বেশ জটিল। কিশোরগঞ্জ সদরের কাছে একটি চক্ষু ক্যাম্পে ডাক্তাররা তাকে লায়ন্স হাসপাতালে রেফার করেন, যেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ক্যানসার হাসপাতালে।

সেখানে তাকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় ক্যানসার না পাওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু জ্বর ও কাশির মতো শারীরিক জটিলতা থাকায় চক্ষু ইনস্টিটিউট অস্ত্রোপচার করতে অস্বীকৃতি জানায়। এভাবে কয়েক মাস পেরিয়ে যায়। পরিবারটি যখন আবার লায়ন্স হাসপাতালে ফিরে যায়, তখন দেখা যায় ক্যানসার আবার ধরা পড়ছে, যার ফলে তার চোখটি ফেলে দিতে হয়।

তানিশার খালা শারমিন আক্তার বলেন, ‘অপারেশনে দেরি হওয়ার কারণেই সম্ভবত এই ক্ষতিটা হয়েছে।’

তানিশা এরইমধ্যে ২৩টি রেডিওথেরাপি এবং তিন রাউন্ড কেমোথেরাপি নিয়েছে, তার সামনে আরও ছয় রাউন্ডের কেমোথেরাপি বাকি। তার বাবা গোলাপ মিয়া প্রায় চার বছর আগে স্ট্রোকের পর কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, অন্যের সাহায্য ছাড়া নড়াচড়া করতে পারেন না। গোলাপ মিয়ার চিকিৎসায় তার পরিবার ৫ লাখ টাকা খরচ করেছে, আর তানিশার জন্য খরচ হয়েছে অন্তত ৩ লাখ টাকা।

চিকিৎসক ও সরঞ্জামের সংকট

রোগীদের এই করুণ অভিজ্ঞতার পেছনের মূল কারণ হলো চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য অন্তত একটি রেডিওথেরাপি মেশিন থাকা প্রয়োজন। সেই হিসাবে বাংলাদেশে অন্তত ১৭০টি মেশিন প্রয়োজন, কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে আছে মাত্র ৩০টি।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৩টি রেডিওথেরাপি মেশিন বসানোর ব্যবস্থা থাকলেও চালু আছে মাত্র সাতটি। এই সাতটির মধ্যে চারটি ঢাকায় এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে একটি করে রয়েছে।

এ ছাড়া, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও সাভারের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্সে একটি করে রেডিওথেরাপি মেশিন রয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে যে ২১টি রেডিওথেরাপি মেশিন সচল আছে, তার ১৪টিই ঢাকায়। বাকিগুলো চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে।

প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতিও চোখে পড়ার মতো। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতি ২৫০ থেকে ৩৫০ জন ক্যানসার রোগীর জন্য একজন রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট থাকা প্রয়োজন। সেই হিসাবে বাংলাদেশে ৭০০ থেকে ৮০০ জন বিশেষজ্ঞ দরকার, অথচ বর্তমানে আছেন মাত্র ২৬০ জনের মতো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতি ১ হাজার রোগীর জন্য পাঁচজন টেকনোলজিস্ট থাকা দরকার; যেখানে দেশে প্রায় ১ হাজার জনের প্রয়োজন, সেখানে আছেন মাত্র ২০০ জন।

এ ছাড়া মেডিকেল ফিজিসিস্ট এবং অনকোলজি নার্সেরও অভাব রয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা তৈরি হয়েছে। এনআইসিআরএইচে প্রতিদিন প্রায় ১০০ নতুন রোগী রেডিওথেরাপির জন্য আসেন, আর আগে থেকেই অপেক্ষায় প্রায় ৮ হাজার রোগী—যাদের কেউ কেউ এক বছর ধরেও সিরিয়াল পাচ্ছেন না।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা আজিজ সুমন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, ২০২৮ সালের মধ্যেও আমরা সব রোগীকে রেডিওথেরাপি সেবা দিতে পারব না।’

হাসপাতালটির দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালানো হয়, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।

কিন্তু একেকটি চিকিৎসা কোর্স সম্পন্ন করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগে, ফলে মেশিনগুলো দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। তিনি বলেন, এই গতিতে চলতে থাকলে অপেক্ষমাণ তালিকা শেষ করতে ‘অনেক দীর্ঘ সময়’ লেগে যাবে।

এদিকে সারা দেশ থেকে প্রতিদিন নতুন রোগী আসায় লাইন কেবল দীর্ঘই হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ফলাফল যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে—চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে রোগীদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ছে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের রেডিওথেরাপি শুরু করতে প্রতি চার সপ্তাহের বিলম্ব রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি নয় শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার আগামী বছরের জুনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন বসানোর পরিকল্পনা করেছে।

এর মধ্যে ছয়টি লিনিয়ার এক্সিলারেটর ঢাকার হাসপাতালগুলোতে এবং বাকিগুলো রাজধানীর বাইরের হাসপাতালগুলোতে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তাই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।’

এই ১৭টি মেশিনের মধ্যে চারটি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। হাসপাতালটিতে সাতটি বাঙ্কার সুবিধা রয়েছে, যার মধ্যে দুটিতে সচল মেশিন আছে। তৃতীয় আরেকটি মেশিন কেনা ও স্থাপনের কাজ চলছে।