২৯ হাজার মানুষকে হত্যা, এল সালভাদরে একসঙ্গে ৪৯০ জনের বিচার শুরু
এল সালভাদর—দেশটির নাম শুনে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যাবেন। ম্যাপ বা চ্যাটজিপিটির সাহায্য ছাড়া এর অবস্থান কোথায়, সেটা বলতে অনেকেই হিমশিম খাবেন।
তবে মধ্য আমেরিকার ওই দেশটি বিশেষ এক কারণে আজ খবরের শিরোনামে।
দেশটিতে কুখ্যাত মারা সালভাৎরুচা (এমএস-১৩ নামেও পরিচিত) অপরাধী চক্রের ৪৯০ নেতা-কর্মীর বিচার শুরু হয়েছে।
ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ২৯ হাজার মানুষের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
গতকাল সোমবার শুনানি শুরু হয়েছে।
অপরাধী চক্রের এসব সদস্যদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক আছেন।
২০২২ সালের মার্চে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বড় আকারে দমন অভিযান শুরু করেন। ওই অভিযানের অংশ হিসেবে অসংখ্য মানুষ গ্রেপ্তার হন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এমএস-১৩ গ্যাংয়ের ৪৮৬ সন্দেহভাজন সদস্যের বিরুদ্ধে ৪৭ হাজার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব অপরাধে জড়ান।
তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে ২৯ হাজার হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত আছে বলে জানা গেছে।
আদালতের ভাষ্য, এই শুনানিতে ‘এমএস-১৩ অপরাধ চক্রের জাতীয় নেতৃত্ব, মহল্লা পর্যায়ের নেতা ও দেশের বিভিন্ন অংশে থাকা সমন্বয়করা অন্তর্ভুক্ত।’
এল সালভাদর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই অপরাধ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এসব অপরাধের মধ্যে আছে ২০০২ সালের মার্চের এক সাপ্তাহিক ছুটিতে ৮৭ জনের হত্যাকাণ্ড।
এসব ঘটনা যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বুকেলে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, সে সময় এল সালভাদরের মোট ভূখণ্ডের ৮০ শতাংশই অপরাধী চক্রের দখলে ছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, এমএস-১৩ এর বিরুদ্ধে মূলত ‘বিদ্রোহে জড়ানোর’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
কৌসুলিরা বলেন, তারা একটি বিকল্প রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল, যা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’।
‘আমরা তাদের বিচার করবো। তাদের যা প্রাপ্য, তা কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে দেওয়া হবে’, বলেন তারা।
২০২২ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট বুকেলে। এই বিশেষ আইন ব্যবহার করে অপরাধী চক্রের ৯১ হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণ হন।
বুকেলের অভিযানে এল সালভাদরে উল্লেখযোগ্য আকারে অপরাধ কমেছে। এতে দেশবাসীর কাছে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা উভয়ই বেড়েছে।
এক পর্যায়ে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে বিবেচিত এল সালভাদর বর্তমানে ওই অঞ্চলের নিরাপদতম দেশের অন্যতম।
অপরাধীদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। বিচারকদের নাম প্রকাশ করছে না সরকার। অধিকার সংস্থারা আশংকা করেছেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় না নিয়ে চক্রের সদস্যদের গণহারে দণ্ড দেওয়া হতে পারে।
কারাগার থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে জেরা ও শুনানিতে অংশ নেবেন কয়েদীরা।
সমগ্র মধ্য আমেরিকাজুড়ে মাদক পাচার ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িয়ে আছেন এমএস-১৩ ও তাদের বিরোধী পক্ষ বারিও ১৮ নামের দুই অপরাধী চক্র।
ট্রাম্প প্রশাসন ওই দুই সংগঠনসহ আরও কয়েকটি অপরাধী চক্রকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়েছে।

