বার্লিনে রেজা পাহলভির ওপর ‘টমেটো সস’ নিক্ষেপ
বার্লিনে একটি ভবন থেকে বের হওয়ার সময় ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ওপর ‘টমেটো সস’ ছিটানো হয়।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এ ঘটনার সময় পাহলভি একটি প্রেস ব্রিফিং শেষ করে বের হচ্ছিলেন। জার্মানির ফেডারেল প্রেস কনফারেন্স ভবনের ওই ব্রিফিংয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করেন।
তার ব্লেজারের পেছনে ও গলায় লেগে থাকা তরলে তিনি আহত হয়েছেন বলে মনে হয়নি। গাড়িতে ওঠার আগে তিনি সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। পুলিশ জানিয়েছে, তরলটি সম্ভবত ‘টমেটো সস’ ছিল।
জার্মানির গোপনীয়তা আইনের কারণে সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৫ বছর বয়সী পাহলভি ইরানের সাবেক শাহের ছেলে। ১৯৭৯ সালে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে তার বাবাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। তবু প্রায় ৫০ বছর নির্বাসনে থাকার পরও তিনি নিজেকে দেশের ভবিষ্যতের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। তবে ইরানে তার প্রকৃত সমর্থন কতটা, তা স্পষ্ট নয়।
জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ জানায়, বৃহস্পতিবার জার্মানির সংসদ ভবনের কাছে তার শত শত সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন।
বার্লিন সফরে কোনো সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ না পেয়ে পাহলভি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ধরে নিচ্ছে যে ইরান সরকারের আচরণ পরিবর্তিত হবে এবং ‘আপনাদের এমন লোকদের সঙ্গে কাজ করতে হবে যারা হঠাৎ করেই বাস্তববাদী হয়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি তা ঘটতে দেখছি না। আমি বলছি না যে কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তবে আমার মনে হয় কূটনীতিকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পতন হলে ক্ষমতায় ফেরার জন্য পাহলভি চেষ্টা করছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপকেও সমর্থন করেছেন।
বার্লিনে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, গণতন্ত্রের জন্য লড়াইরত ইরানি জনগণকে আরও বেশি সহায়তা করতে। তিনি দাবি করেন, গত দুই সপ্তাহে ইরানি কর্তৃপক্ষ ১৯ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে এবং আরও ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পাহলভি বলেন, ‘স্বাধীন বিশ্ব কি কিছু করবে, নাকি নীরবে এই হত্যাযজ্ঞ দেখবে?’
এদিকে, ঘটনার এক ঘণ্টারও বেশি সময় পরে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জ এক বিবৃতি দিয়ে বলেন, সরকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোকে স্বাগত জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি ইসলামাবাদে কূটনৈতিক আলোচনা আবারও শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যার লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধের আরও বিস্তার রোধ করা। তেহরানের উচিত এই সুযোগটি কাজে লাগানো।’