৫৪ দিনে গড়াল ইরানের ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুগপৎ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এরপর একে একে কেটে গেছে ৫৩টি দিন। 

হামলা শুরুর অল্প সময় পর থেকেই ইরানে ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ চালু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাঝে যুদ্ধে বিরতি এলেও স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছেনি ইন্টারনেট সেবা। 

আজ সেই ব্ল্যাকআউট ৫৩ দিন পেরিয়ে ৫৪তম দিনে পা রেখেছে। 

ইন্টারনেট সেবা নিরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানায়, ‘ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ৫৪তম দিনে পা রেখেছে। ১ হাজার ২৭২ ঘণ্টা ধরে এটি কার্যকর আছে।’

এর আগে গত ৫ এপ্রিল ব্ল্যাকআউটের ৩৭তম দিনে নেটব্লকস জানিয়েছিল, মানব ইতিহাসে টানা এতো দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের আর কোনো নজির নেই।  

জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধে উঠতে শুরু করলে দেশের বিভিন্ন অংশে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করতে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্ল্যাকআউট শুরু হয়।

তবে ইরানের স্থানীয় ওয়েবসাইট ও অ্যাপগুলো ইন্টারনেটে যুক্ত আছে। শুধু বিদেশি সাইট ও অ্যাপের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ চালু আছে। যার ফলে, ‘ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ’, এই দাবিও সত্য নয়। 

ইন্টারনেট সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অসংখ্য মানুষের চাকরি ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চালু হয়। গতকাল ওই ১৪ দিন ফুরিয়ে যাওয়ার পর ‘ইরানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিতে’ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

জানুয়ারিতে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হওয়ার সময় সরকার জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক ইন্টারনেট ভিত্তিক সেবা তিন সপ্তাহের বেশি টিকতে পারবে না।

পাশাপাশি, আরও জানানো হয়, প্রতিদিন লাখো-কোটি ডলার ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনলাইন ব্যবসায়ীরা। 

 

ইন্টারনেট প্রো 
 

অপরদিকে, সীমিত আকারে কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘ইন্টারনেট উন্মুক্ত করার একটি পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (এসএনএসসি)। 

গত ২০ এপ্রিল ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা গত সোমবার জানান, অর্থনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ইরানের পার্লামেন্টের শিল্প ও খনি সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান রেজা আলিজাদেহ জানান, ‘ইন্টারনেট প্রো’ নামে একটি বিশেষ সেবা চালু করা হবে। 

যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও যাতে শিল্প, উৎপাদন, বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, তা নিশ্চিত করতে এই সেবা চালু হচ্ছে। 

আলিজাদেহ জানান, ধাপে ধাপে এই প্রকল্প চালু হবে। প্রথম ধাপে, যাদের বাণিজ্যিক কার্ড আছে, তারা চেম্বার অব কমার্সের মাধ্যমে এই সেবা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে উৎপাদন, শিল ও বাণিজ্য খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সেবা পাবে। 

পুরোটা সময় নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। 

আলিজাদেহ জানান, ‘ইন্টারনেট প্রো’ সেবা দেওয়ার জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। 

সবার জন্য ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা সংস্থা ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল নির্ধারণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।