হোয়াইট হাউস ডিনারে গুলি

যেভাবে নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙেন বন্দুকধারী, সম্ভাব্য কারণসহ যা জানা গেল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ঢুকে পড়া সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর লক্ষ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা—এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হয়ে হোটেলে ঢুকে পড়েন এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব নিয়ে এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানিয়েছেন ব্ল্যাঞ্চ।

আজ রোববার সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।    

যা ঘটেছিল

গতকাল শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে আয়োজন হয় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার। এসময় নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট দিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে এক বন্দুকধারী।

বলরুমের দিকে নামার সিঁড়ির কাছে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা দ্রুত তাকে জাপটে ধরেন এবং হাতকড়া পরিয়ে ফেলেন। ধস্তাধস্তির সময় গুলি চালান হামলাকারী। একজন এজেন্ট গুলিবিদ্ধ হলেও নিরাপত্তা ভেস্টের কারণে প্রাণে বেঁচে যান।

 

সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা দ্রুত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের দ্রুত মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেন।

কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, হামলাকারী মূল বলরুম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কয়েকশত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘হামলাকারী খুব বেশি দূর যেতে পারেনি। তিনি পেরিমিটার বা নিরাপত্তা সীমানা মাত্র কয়েক ফুট ভাঙতে পেরেছিল। আমাদের সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করেছে। আমরা সবাই নিরাপদ ছিলাম, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও নিরাপদ ছিলেন।’

তবে এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে যে, ওয়াশিংটনের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই অনুষ্ঠানের এত কাছে হামলাকারী কীভাবে পৌঁছাল।

আটক ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি তদন্তকারীদের সহযোগিতা করছেন না বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য কারণ

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল ওই বন্দুকধারী, যার মধ্যে সম্ভবত প্রেসিডেন্টও ছিলেন।’

তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কিছু তথ্য এবং তার পরিচিতদের কাছ থেকে প্রাথমিক ধারণা পেয়েছেন।

তার কিছু লেখা থেকেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টার্গেট করার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ।

যেভাবে হোটেলে পৌঁছান

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হামলাকারী ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ট্রেনে শিকাগো হয়ে ওয়াশিংটনে এসেছিলেন এবং ডিনারের এক বা দুই দিন আগে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলেই চেক-ইন করেন।

শটগান ও হ্যান্ডগানটি তিনি গত কয়েক বছরের মধ্যে কিনেছিলেন বলে জানা গেছে।

হামলাকারীর পরিবার যা জানাল

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হামলাকারী টমাস অ্যালেন একটি ‘ম্যানিফেস্টো' লিখেছিলেন, যেখানে স্পষ্টভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ ছিল।

হামলার কয়েক মিনিট আগে পরিবারের সদস্যদের কাছে ওই 'ম্যানিফেস্টো' পাঠান তিনি। তার ভাই এ বিষয়ে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বিভাগকে জানান।

হামলাকারীর বোন তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, তার ভাইয়ের কথাবার্তায় প্রায়ই চরমপন্থী আচরণ থাকত এবং তার ‘কিছু একটা করার’ পরিকল্পনার ইঙ্গিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, দুটি হ্যান্ডগান ও একটি শটগান কিনে তা বাবা-মায়ের বাসায় রেখে দিয়েছিলেন অ্যালেন। পরিবারের বাকি সদস্যরা এ বিষয়ে জানতেন না।

শুধু তাই নয় নিয়মিত শুটিং রেঞ্জে গিয়ে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিতেন এবং ‘দ্য ওয়াইড অ্যাওয়েকস’ নামে একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তার বোন।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘নো কিংস’ ব্যানারে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন অ্যালেন।

হোয়াইট হাউস জানায়, অ্যালেনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পবিরোধী ও খ্রিস্টধর্মবিরোধী বক্তব্য রয়েছে।

হামলাকারী একাই ছিলেন

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হামলাকারী একাই এই কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফবিআইসহ অন্যান্য তদন্ত সংস্থাগুলো হামলাকারী ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও অতীতের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছে।

এফবিআই এজেন্টরা ইতোমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসের উপশহর টরেন্সে হামলাকারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাড়ির বাইরে অবস্থান নিয়েছেন।

হামলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো বড় ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হামলাকারীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জিনিন পিরো।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

হামলার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির বিষয় উল্লেখ করে হোয়াইট হাউসের ভেতরে তার পরিকল্পিত ‘জায়ান্ট বলরুম’ প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি দেন।

তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসে বর্তমানে নির্মাণাধীন ‘মিলিটারি টপ সিক্রেট বলরুম’ থাকলে এই ঘটনা কখনোই ঘটত না।’

ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হামলাকারীকে খুবই সমস্যাগ্রস্ত একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।