ফ্রান্সে টিকটকে বিবাদের জেরে ১৭ বছর বয়সী যুবক নিহত

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুবকটি এক যুবতীর টিকটক ফলোয়ার হতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই যুবতী তাকে ফলোয়ার হিসেবে গ্রহণ করেনি। বারবার রিকুয়েস্ট পাঠিয়েও চিড়ে ভেজেনি। সেখান থেকে শুরু হয় বিবাদ। সেই বিবাদের জেরে মারা গেলো অপর এক যুবক। 

গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া এই অভিনব হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানা গেছে। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত বা ভুক্তভোগী, কারও নামই প্রকাশ করা হয়নি। 

ফলোয়ার হতে চাওয়া সেই ১৭ বছর বয়সী যুবক ছুরির আঘাতে অপর এক যুবককে হত্যার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। 

অভিযুক্ত যুবককে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে অবস্থিত মো শহরের একটি আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার আরেকবার তাকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৌঁসুলি জঁ-মিশেল ব্লাঁদিয়ে।   

শনিবার প্যারিসের শহরতলীর ভিলভদ শহরের একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। 

কৌসুলি জানান, ঘটনার সূত্রপাত টিকটকে। সন্দেহভাজন হত্যাকারী বারবার উল্লেখিত যুবতীকে টিকটকে ফলোয়ার রিকুয়েস্ট পাঠিয়েও বিফল হয়। 

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক ওই যুবতীকে শনিবার ফোন করে। ফোনে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। 

কল চলাকালীন সময় ওই যুবতীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর ছেলে বন্ধু তার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে সন্দেহভাজন হত্যাকারীর সঙ্গে কথা বলে। 
তাকে ওই অবকাশযাপন কেন্দ্রে ‘মারামারি’ করতে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় সে।  

ব্লাঁদিয়ে জানান, অবকাশযাপনকেন্দ্রে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া যুবকের ওপর দুই যুবক হামলা চালায়। বুকে ছুরির আঘাত পেয়ে সে মারা যায়।

১৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজন যুবককে প্রত্যক্ষদর্শীরা চিহ্নিত করেছে।

শনিবার রাতে সে প্যারিসের শহরতলীর একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত হয়। এ সময় তার হাতে ছুরির ক্ষত দেখা যায়। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার দাবি করে সে।  

ওই যুবক তদন্তকারীদের জানান, ‘আমি যে ভীত নই, সেটা দেখানোর জন্য সঙ্গে ছুরি নিয়ে গিয়েছিলাম।’

‘আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলি। তবে আমার হত্যা করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না’, যোগ করে ওই যুবক। 

সন্দেহভাজন যুবকের বিরুদ্ধে একটি কিশোর অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে। একজন বয়স্ক আত্মীয়র সঙ্গে সহিংস আচরণ ও নিজের কাছে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।  

তিনি জানান, হত্যাকারী যুবকের সঙ্গে থাকা তার বন্ধুকে এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তাকে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।