ইমরান খানকে নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমের খবর বিভ্রান্তিকর, দাবি ইসলামাবাদের

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাগারের পরিস্থিতি ও চিকিৎসা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়েছে দেশটির সরকার।

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

ইসলামাবাদের দাবি, ইমরান খানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে বা তাকে যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে—এমন দাবির সঙ্গে সরকারি নথিতে পাওয়া তথ্যের মিল নেই।

গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (এমওআইবি) এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, উপযুক্ত আদালতের বস্তুনিষ্ঠ রায়ে সাজা পেয়েছেন ইমরান খান। সে অনুযায়ী তিনি কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বন্দীকে বাড়তি শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জন কারাবাসে রাখা হচ্ছে, তার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে বা তাকে তার প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ পাকিস্তান সরকার প্রত্যাখ্যান করছে।’

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ইমরানকে দর্শনার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, টেলিফোনে কথা বলা, পড়ার উপকরণ, টেলিভিশন দেখার সুযোগ, বাড়িতে রান্না করা খাবার ও শরীরচর্চার সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে।

তাকে কারাগারে একটি সাত কক্ষবিশিষ্ট আলাদা কমপাউন্ডে রাখা হয়েছে, যেখানে ঘুম, ব্যায়াম ও প্রক্ষালনের উন্নত ব্যবস্থা আছে।

ইমরানকে তার পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে—এমন দাবিও নাকচ করেছে মন্ত্রণালয়। কারাগারের নথির বরাত দিয়ে তারা বলেছে, প্রায় ১৯৮টি সাক্ষাতের সময়ে ৯০০-এর বেশি দর্শনার্থীর প্রবেশের তথ্য রয়েছে।

এসবের মধ্যে তার বোন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ রয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইমরানকে প্রতি সপ্তাহে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, সর্বশেষ ৪ আগস্ট ইমরানের সঙ্গে তার স্ত্রী দেখা করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারের নথিতে পাকিস্তান ও বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইমরানের টেলিফোন, ল্যান্ডলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে ২১ মার্চ তার এক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার তথ্য রয়েছে। তার বোনদের সঙ্গে ১৮, ১৯ ও ২৫ আগস্ট সাক্ষাতের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

ইমরানকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেছে সরকার।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত এই বন্দীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় ৩০টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে।’

এতে কারা চিকিৎসকের নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি পিমস, শিফা ইন্টারন্যাশনাল, শওকত খানম ও আল-শিফা ট্রাস্ট আই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চোখের রেটিনাসংক্রান্ত সমস্যার জন্য ইমরান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পেয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচটি অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন, রেটিনার ইমেজিং, ওষুধ এবং পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, জুলাই ও ২১ আগস্টসহ বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞদের করা মূল্যায়নে তাকে ‘সচেতন ও স্থিতিশীল’ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার স্বাস্থ্যের আকস্মিক বা নিয়ন্ত্রণহীন কোনো অবনতির তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।

মন্ত্রণালয় ইমরানের বোন ড. উজমা নিয়াজির বক্তব্যেরও উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, তিনি সম্প্রতি ইমরানকে ‘১০০ শতাংশ সুস্থ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং তার রক্তচাপ ১২০/৮০ বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইমরানের চোখের সমস্যা প্রায় পুরোপুরি সেরে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার বলেছে, ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় তার বোন উপস্থিত ছিলেন।

সরকার আরও বলেছে, পরবর্তী কার্যক্রম না হওয়া পর্যন্ত ইমরানের স্বাস্থ্যগত অবস্থা বা চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যম কিংবা জনসমক্ষে প্রকাশ না করতে তার পরিবার, রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

মন্ত্রণালয় বলেছে, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়কে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত না করে ক্লিনিক্যাল নথি ও আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।

তারা আরও বলেছে, কারাবিধি, আদালতের আদেশ ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগে যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ আরোপকে যোগাযোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

ইমরানের ছেলেরা তার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যেতে পারছেন না—এমন দাবির বিষয়ে সরকার বলেছে, দুজনের কাছেই প্রবাসী পাকিস্তানিদের জন্য বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এসব পরিচয়পত্র দেশটিতে প্রবেশের জন্য স্বীকৃত ভ্রমণ নথি।

মন্ত্রণালয় বিদেশি গণমাধ্যমগুলোকে যাচাই করা কারাগার ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং তথাকথিত রাজনৈতিক ও বিতর্কিত অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য করার আহ্বান জানিয়েছে।