মামদানির শহরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ
শিগগির মেয়র জোহরান মামদানির শহর নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্কুলে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় নবম শ্রেণি থেকে হাইস্কুল শুরু হয়।
এএফপিকে এ বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানান, এখন থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে শুধু হাইস্কুল পর্যায়ে এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এর ব্যবহার নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিত থাকবে, যেমন এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখার ক্ষেত্রে।
যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স সাধারণত প্রায় ১৩ বছর।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এএফপির অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি নিউইয়র্ক সিটি হল ও নগরটির শিক্ষা বিভাগ।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মানসিক সহায়তা দেওয়ার দাবি করা বিভিন্ন এআই ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবটও’ নিষিদ্ধ করা হবে।
তবে নতুন নিয়মে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি বা বার্তা লেখার মতো কাজে শিক্ষকদের এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মগুলো আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে।
নগরটির শিক্ষা বিভাগ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ক্লাসে ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের সময়সীমা ৪৫ মিনিট এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৩০ মিনিটে সীমিত রাখার সুপারিশ করেছে।
তবে এআইয়ের ব্যবহার কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ এআইয়ের ব্যবহার প্রায়ই স্কুলের বাইরের পরিবেশে হয়ে থাকে।
এর আগে মার্চে এআই ব্যবহারের একটি প্রাথমিক কাঠামো প্রকাশ করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের এআই গাইডেন্সে কোন কোন কাজে এআই ব্যবহার করা যাবে, তা বোঝাতে ট্রাফিক লাইট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে লাল রঙে চিহ্নিত ব্যবহারগুলো নিষিদ্ধ, হলুদ রঙে চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলোতে সতর্কতা ও মানব তত্ত্বাবধানে এআই ব্যবহার করা যাবে এবং সবুজ রঙে চিহ্নিত ব্যবহারগুলো অনুমোদিত। ([NYC Schools][1])
গবেষণা, অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া ওই কাঠামোকে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক অতিরিক্ত শিথিল বলে মনে করেন। এতে তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় নগরটির স্কুলবিষয়ক চ্যান্সেলর ক্যামার স্যামুয়েলস বলেন, কর্তৃপক্ষ ‘সঠিক বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে’।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তার দপ্তর অভিভাবকদের মতামত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে।
শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, মতামত বিবেচনায় নিতে মার্চের ওই কাঠামোর পর আরও বিস্তৃত একটি ‘গাইডবুক’ প্রকাশের পরিকল্পনা নগর কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই ছিল।
শিক্ষা বিভাগ শিক্ষক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে।
টাস্কফোর্সটি আগামী এপ্রিলে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এটি স্কুলে এআই ব্যবহারের বিষয়ে নিউইয়র্কের নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির শহর নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড়।
এ কারণে নগরটির সরকারি স্কুলে প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অংশেও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।



