সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করছে।

এএফপি বলছে, ৮০ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কে জড়িয়েছেন। গতকাল শুক্রবারের ঘোষণায় তিনি আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। তবে কোন কোন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা জানাননি।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের কারণে অবিলম্বে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

কী কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিয়মিত ‘কাল্পনিক’ ও ‘মিথ্যা’ তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, কোনো সংবাদমাধ্যম নিয়মিত মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তাদের দূরে রাখার অধিকার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন এই নিষেধাজ্ঞার কারণ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, গত দুই বছরের ‘ধারাবাহিক প্রতিবেদন’ই এর কারণ।

তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে রিপাবলিকান পার্টি ও রিপাবলিকান প্রশাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমর্থনে কথা বলেছেন। ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক হেগসেথ অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন মার্কিন সেনাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তবে কোন প্রতিবেদন বা কীভাবে সেনারা ঝুঁকিতে পড়েছে, তা নির্দিষ্ট করেননি তিনি।

‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর অবৈধ আক্রমণ’

ট্রাম্পের ঘোষণার পরও সিএনএন ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে ছিলেন। দুই টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের ড্রাইভওয়ে থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতেও দেখা যায়।

সিএনএন ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞাকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ‘অবৈধ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের প্রতিবেদন ন্যায্য ও সঠিক এবং মার্কিন সংবিধানের সুরক্ষার আওতায় রয়েছে।

পলিটিকোও বলেছে, তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা ‘জোরালোভাবে’ আইনি লড়াই করবে।

প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী স্বাধীন সংগঠন হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, নিজেদের দায়িত্ব পালন করার কারণে যেসব সাংবাদিককে আলাদাভাবে নিশানা করা হচ্ছে, তারা তাদের পাশে থাকবে।

এর আগেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই তার পছন্দের বাইরে সংবাদ প্রকাশকারী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা গেছে।

তিনি একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন, ট্রুথ সোশ্যালে সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করেছেন এবং কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে সিএনএনের উপস্থাপক কাইটলান কলিন্সও রয়েছেন।

তবে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বিরল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সিএনএনের প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। পরে আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে।

গত বছর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকেও (এপি) কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এর কারণ, ট্রাম্পের নির্দেশিত ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামের পরিবর্তে সংবাদ সংস্থাটি ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নাম ব্যবহার অব্যাহত রেখেছিল।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জন্য আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণও চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত জায়গায় কোন কোন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন, তা নির্ধারণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

‘সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক’

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার সমালোচনা করেছেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনের কর্মকর্তারা।

রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেসের প্রেসিডেন্ট ব্রুস ব্রাউন বলেছেন, সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিষিদ্ধ করার এই উদ্যোগ ‘সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক’।

তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস যখন কিছু সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দেয়, তখন তাদের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ার কারণে অন্য সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করতে পারে না। তার ভাষায়, এটি ‘দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বৈষম্য’ এবং চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত দ্রুত তা বাতিল করতে পারে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার জনপ্রিয়তার পরিমাপ রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ এবং বিশেষ করে জ্বালানির বাড়তে থাকা দাম তার রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর চাপ তৈরির অন্যতম কারণ।