ককরোচ নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডে আটক
ভারতের দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে আটক করা হয়। আটকের পর তাদের জাফরপুর থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌরভ দাস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, সোমবার দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে অবহিতকরণের তালিকা থেকে বাদ দেয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে জনঅসন্তোষ প্রকাশের অন্যতম প্রধান স্থান হিসেবে পরিচিত এলাকাটির পরিবর্তে বিক্ষোভের জন্য বিকল্প তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থান ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে তুলনামূলক দূরে।
পুলিশের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, বিক্ষোভের স্থান সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে রাজনৈতিক নেতা ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা কঠিন হবে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দলটির আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, ‘আপনারা প্রতিরোধকে নিষিদ্ধ করতে পারবেন না।’
যন্তর মন্তরের কাছে সিজেপির বিক্ষোভকারীদের পতাকা হাতে একটি ভিডিও প্রকাশের পর দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা ওই এলাকার খাবারের দোকান ও স্টলের পাশ দিয়ে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করেছিলেন। এসব দোকান সাধারণত আশপাশের অফিসের কর্মীদের খাবারের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে। তবে ১০ অক্টোবরের মতো বড় বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলে সেগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাদ দেওয়ায় সেখানে সমাবেশ করা বেআইনি। এ কারণে বিক্ষোভকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা রয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে।
সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৭৩টি কোম্পানির মোতায়েন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদনও করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাহিনীগুলোর মোতায়েনের মেয়াদ সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে সোমবার ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ভোটার বাদ দেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ অন্যদের করা আবেদনে ১০টির বেশি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি।
ভোট চুরির অভিযোগে উত্তাল বিক্ষোভের এক দিন পর এসব পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটেছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। এর আগে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা, অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে পদযাত্রা শেষে তারা এসআইআর ও নির্বাচনে কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে যৌথ আবেদন করেন। রাজধানীতে বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে শক্তি প্রদর্শনের বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।