‘স্ত্রীকে হারিয়েছি, আগুনে একমাত্র মেয়েকেও হারালাম, কী নিয়ে বাঁচব’
‘তিন বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়েছি, এবার কারখানার আগুনে একমাত্র মেয়েটাকেও হারালাম। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব?’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গের সামনে কথাগুলো বলছিলেন দেলোয়ার হোসেন।
তার ১৬ বছরের মেয়ে মীম আজ শনিবার কেরাণীগঞ্জে গ্যাস লাইটার ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।
পেশায় নিরাপত্তাকর্মী দেলোয়ারের বাসা কেরাণীগঞ্জের আমবাগিচায়। স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান তিন বছর আগে। একমাত্র সন্তান মেয়ে মীমকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তার।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'আজ মেয়ের কারখানায় আগুন লাগার পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে তিনবার ফোন দেই মেয়ের নম্বরে। অনেক শব্দ-হট্টগোল শুনি, মেয়ের কোনো কথা আমি শুনতে পাইনি। এরপর আবার ফোন দিয়ে দেখি কল যায় না। তারপর একের পর এক ফোন দিয়েই গেলাম, ফোন আর যায় না।'
'পরে ফ্যাক্টরিতে যাই, হাসপাতালে যাই। সন্ধ্যায় মিটোফোর্ড হাসপাতালের লাশঘরে গিয়ে দেখি মেয়েটা পড়ে আছে। অনেকবার চাইলাম, তারা মেয়েটাকে দিলোই না,' বলেন দেলোয়ার।
তিনি জানান, প্রায় ৫ মাস আগে মীম ওই কারখানায় যোগ দিয়েছিল।
দেলোয়ার বলেন, 'একটাই সন্তান আমার, তাকে নিয়েই আমার জীবন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আর বিয়ে করিনি। মেয়েকে পড়াশোনা করাতে চেয়েছি। পাঁচ মাস আগে মেয়ে এক প্রকার জোর করেই কাজে যোগ দেয়।'
'মেয়ে বলত তুমি তো একাই কাজ করো। আমিও যদি একটা কাজ করি, তাহলে আমাদের আরেকটু ভালো চলবে। তোমার চাপও একটু কমবে।'
দেলোয়ার জানান, সন্ধ্যার দিকে মীমের মরদেহ শনাক্ত হলেও, হস্তান্তর করছে না পুলিশ।
যোগাযোগ করা হলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ওই কারখানা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মিটোফোর্ডের মর্গে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মীম নামে এক মেয়ের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে।'
ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর ১টা ১১ মিনিটে কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের মোট সাতটি ইউনিট দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ আগুনের ঘটনায় মীমসহ মোট ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, মীম ছাড়া বাকিদের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

