সহকর্মীদের খোঁজে গাজীপুরে পোড়া পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের ভিড়

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

গাজীপুরের ডেগিরচালা এলাকায় পোশাক কারখানায় আগুনের ঘটনায় সহকর্মীদের খোঁজ নিতে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন।

আজ শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ফকির মার্কেটের সাততলা ভবনের তৃতীয় তলায় মেট্রিক্স গার্মেন্টসের কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। নয়টি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সহকর্মীদের খোঁজ নিতে আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের পাশাপাশি স্বজন ও উৎসুক জনতার ভিড়। তাদের কেউ কাঁদছিলেন, কেউ সহকর্মীদের খোঁজ নিচ্ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটিতে কাজ করছিলেন শ্রমিক আরাফাত। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সাততলায় কাজ করছিলাম। তিনতলায় গোডাউন। গোডাউনে আগুন লেগেছে শুনে ছাদে চলে যাই। এ জন্য হয়তো আমরা বেঁচে গেছি।’

ইনডেসর পোশাক কারখানার শ্রমিক মো. হাসান বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা আটকা পড়েছিল। তাদের খোঁজ নিতে এসেছি। এখনো ভেতরে ধোঁয়া রয়েছে। কোনো শ্রমিকের কিছু হয়েছে কি না, তা দেখছি। আরও কতক্ষণ অপেক্ষা করব, বুঝতে পারছি না।’

বিকেসি পোশাক কারখানার শ্রমিক রবিন মিয়া বলেন, ‘এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, এত বড় ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল। আমাদের জীবনে কখন কী হয়ে যায়, জানি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিকেসির দুই নারী শ্রমিক বলেন, ‘এখানে আমাদের পরিচিতরা চাকরি করেন। তাদের খুঁজতে এসেছি, কিন্তু এখনো পাচ্ছি না। হয়তো তারা বাসায় চলে গেছেন। তারপরও অপেক্ষা করব। যদি কারও কিছু হয়ে থাকে।’

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, পোড়া কারখানার মূল ফটকের সামনে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে অবস্থান করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। কারখানার সামনে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িও ছিল। বহিরাগত শ্রমিক ও উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছিল।

সাততলা ভবনটির প্রতিটি তলার বেশ কয়েকটি কাচের জানালা ভাঙা দেখা যায়। ভাঙা কাচের টুকরা নিচের সড়কেও পড়ে ছিল। তিনতলার জানালা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী ডেইলি স্টারকে জানান, খবর পেয়ে প্রথমে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ও পরে কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।

তিনি বলেন, ‘আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৬৯ শ্রমিককে এ পর্যন্ত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানানো হবে।’