আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে (টুকু) নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের একটি আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হননি।

বাদী হুমায়ূন কবীর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমির হামজা আদালতে হাজির না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। তিনি তার সংসদীয় আসনে অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ইসলামের সব আদেশ মেনে যথারীতি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত পালন করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।’

হুমায়ূন কবীর বলেন, পরে তার ওই মন্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ পেলে আমার নজরে আসে। এতে মন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে বলে আমি দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি। এ মামলায় আজ বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে আমির হামজার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। 

একই ঘটনায় গত ৩০ মার্চ এস এম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে শতকোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।