আশুলিয়ায় স্কুল শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, বেতারের কর্মচারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

সাভারের আশুলিয়ার কবিরপুরে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশ বেতারের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ বেতারের ক্ষুদ্র তরঙ্গ প্রেরণ কেন্দ্র, কবিরপুরের আবাসিক এলাকা থেকে নিরাপত্তাকর্মী আবদুল নঈমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। 

এর আগে গতকাল ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে অভিযুক্তদের ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। 

পরে শিক্ষার্থীর বাবা মানিক মিয়া বেতারের দুই কর্মচারীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। 

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুবেল হাওলাদার দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

ওসি বলেন, ‘ভিডিওটি পুলিশের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নঈমকে আটক করা হয়। এছাড়া লোকমান শেখ নামে আরও এক আসামি পলাতক আছেন। দুজনই বাংলাদেশ বেতারের কর্মচারী।’

মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ৮টার দিকে বেতারের আবাসিক এলাকায় পুকুরের পূর্ব পাশে ফাঁকা জায়গায় নঈম ও লোকমানসহ অজ্ঞাতনামা ৩ জন ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও মারধর করে। 

ছেলেকে উদ্ধারে গেলে বাবা-মা দুজনই গালাগাল ও মারধরের শিকার হন। পরে অন্যান্যদের সহযোগিতায় ছেলেকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।

যোগাযোগ করা হলে বেতারের কবিরপুর কেন্দ্রটির প্রধান মো. হালিমউজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মারধরের ঘটনাটি অমানবিক। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি গতকাল আমাদের কর্মচারী লোকমান শেখের মেয়ের মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। তখন নঈম এসে ছেলেটিকে আটক করে। আজ শুনলাম, নঈমকে আটক করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে মুঠোফোনে বলেন, ‘কবিরপুরের ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। আমরা বিষয়টি দেখছি।’