৮ কেজি হেরোইন জব্দ: গ্রেপ্তারের ২ দিন পর জানা গেল তিনি ডিবির কনস্টেবল

এমরুল হাসান বাপ্পী
এমরুল হাসান বাপ্পী
মুনতাকিম সাদ
মুনতাকিম সাদ

ছিল নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান। কিন্তু সেই অভিযান থেকেই শেষ পর্যন্ত জব্দ হয় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ হেরোইনের চালান।

গত মঙ্গলবার বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের এ অভিযানে শুধু ৮ কেজি হেরোইন জব্দ করা হয়নি, সেখান থেকে গ্রেপ্তার হন ডিবিতেই কর্মরত কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলমও (৩৫)। সঙ্গে গ্রেপ্তার হন তার সহযোগী সালমান হোসেন (২১)।

রমনা এলাকার শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণির পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এ অভিযান চালায় ডিবি।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম একটি সংবাদ সম্মেলন করলেও সেখানে জাহাঙ্গীরের পুলিশ সদস্য পরিচয়ের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।

এমনকি ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এ ঘটনায় বুধবার রমনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এই দুজনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন ডিবির খিলগাঁও জোনাল টিমের উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন।

কিন্তু, মামলার এজাহারেও জাহাঙ্গীরের পেশার কথা গোপন রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের (ডিবি) এক ডেপুটি কমিশনার ও এক অতিরিক্ত উপকমিশনারও জাহাঙ্গীরের পেশার বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (খিলগাঁও জোন) বেলায়েত হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই এর বাইরে আমরা কিছু বলতে পারব না।'

জানতে চাইলে বুধবার করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক মোসাদ্দেক হোসেন গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর ডিবিতে কর্মরত কনস্টেবল। তিনিসহ দুজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানা যাবে।'

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার কনস্টেবল জাহাঙ্গীরের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ও সালমানের বাসা রাজধানীর মতিঝিলে।

মামলার নথি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে রমনা এলাকায় সচিবালয় কোয়ার্টারের পাশে অভিযান চালানোর সময় ৭-৮ জনের একটি দল পালানোর চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর ও সালমান ধরা পড়েন। এ সময় তাদের কাছ থেকে হেরোইনের প্যাকেট জব্দ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটের ওপর কালো মার্কার দিয়ে 'কেকেকে' লেখা ছিল।

এজাহারে বলা হয়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা হেরোইনের কারবার করে আসছিল।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। এত বড় চালান কোথা থেকে সরবরাহ হলো, কারা করল, কীভাবে এটি দেশে ঢুকল এবং কার ছত্রচ্ছায়ায় এই কারবার চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কারবারের অর্থ লেনদেনের পথ এবং চোরাকারবারের রুট নিয়েও তদন্ত চলছে।

ডিবির তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের অন্য সহযোগীদের নামও প্রকাশ করেছেন, যারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।

পলাতক আসামিরা হলেন তুষার আবদুল্লাহ (২৬), বাপ্পি (২৮) ও মানিক (২৬)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।