ঋণ করে কেনা অটোরিকশা বাড়িতে নিতেই চুরি, ঈদের আনন্দ বিষাদ সোহেলের
ঋণ করে কেনা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি বাড়িতে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চুরি হয়ে গেছে। ঘরের দরজার তালাবদ্ধ শিকল কেটে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাসহ অতিরিক্ত দুটি ব্যাটারি নিয়ে যায়। এ ঘটনায় হতদরিদ্র সোহেল মিয়া পড়েছেন চরম বিপাকে। উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হারিয়ে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোহেল মিয়া (২৮) মঙ্গলবার বিকেলে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি অটোরিকশা কেনেন। রাত ৮টার দিকে তিনি অটোরিকশাটি বাড়ির গ্যারেজে (আলাদা ঘর) তালাবদ্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন সকাল ৮টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার জন্য গ্যারেজে গিয়ে দেখেন, দরজার তালাবদ্ধ শিকল কাটা। ভেতরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অটোরিকশাসহ প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি অতিরিক্ত ব্যাটারিও নেই। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে চোরেরা শিকল কেটে এসব নিয়ে গেছে।
ঈদের আগমুহূর্তে এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন সোহেল। বুধবার সারাদিন তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, পুরোনো অটোরিকশার বাজার ও আশপাশের গ্যারেজে নিজের অটোরিকশার খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
বুধবার রাত ১০টার দিকে নিয়ামতপুর আলিয়া মাদ্রাসার পাশে এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় সোহেলের। তিনি জানান, আগে ভাড়ায় অন্যের অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু সেই আয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই কিছু বাড়তি আয়ের আশায় স্থানীয় সমিতি ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি ধারদেনা করে অটোরিকশাটি কেনেন। কিন্তু কেনার রাতেই সেটি চুরি হয়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহেল বলেন, ‘ঈদে একটু বেশি আয় করতে পারব ভেবেই অনেক কষ্টে ঋণ করে অটোরিকশা কিনেছিলাম। কিন্তু সেদিন রাতেই সেটা চুরি হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব, আর পরিবার নিয়ে চলব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’
এদিকে একই রাতে ওই এলাকার বকুল মিয়া ও মাজেদা আক্তারের দুটি পানির মোটরও চুরি হয়েছে। এক রাতে তিনটি চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম ও মুস্তাফিজুর রহমান জানান, এলাকায় প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র দিনে-রাতে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এতে অটোরিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এই চোরচক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে চুরি হওয়া অটোরিকশাসহ মানুষের জীবিকার সম্বল উদ্ধার করতে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, ‘অটোরিকশা চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’