চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় প্রতিবেশী আবীরের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় আবীর আলী (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী আক্কাস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ আদায়ের পর তা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। সে কারণেই তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ড একটি জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ। এটি শুধু একজন নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা নয়, বরং মৃত্যুর পর তার মরদেহের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা চালানোর ঘটনাও বটে। মরদেহ ছয় টুকরো করে বিকৃত ও অবমাননা করার মাধ্যমে অপরাধের ভয়াবহতা আরও বেড়েছে, যা মানবিক মূল্যবোধ ও মর্যাদার প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের অপরাধ সমাজে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এমন অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দয়া বা নমনীয়তা প্রদর্শন ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
আদালত সূত্র জানায়, গত মাসে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর বুধবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণের শিকার হয়। পরে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ ছয় টুকরো করে নগরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় এবং শরীরের কিছু অংশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে প্রতিবেশী আবীর আলীর সম্পৃক্ততা পাওয়ায় ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আবীর মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ ও পরে হত্যা করার কথা স্বীকার করে।
ঘটনার তদন্তে পিবিআই আবীরের এক বন্ধুসহ তার বাবা-মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে আবিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খাল থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পতেঙ্গা উপকূল এলাকায় একাধিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর পিবিআই আবির ও তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে তদন্তে আবিরের বাবা-মা ও বোনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেন।
এদিকে, মামলার আরেক আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার বর্তমানে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।