সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ১ বছরে বেড়েছে ৪১ শতাংশ

রেজাউল করিম বায়রন
রেজাউল করিম বায়রন

২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ১২ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

২০২৪ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এই অর্থ ছিল সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আগের তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আমানত।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতি বছর আমানতের তথ্য প্রকাশ করে। ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ ক্যাটাগরির আওতায় দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক, বাসিন্দা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের মুদ্রায় রাখা আমানত পর্যবেক্ষণ করে।

তবে প্রতিবেদনে আমানতকারীর ধরন বা কোন উদ্দেশ্যে আমানত রাখা হয়েছে, তা আলাদা করে দেখানো হয় না।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো ঐতিহাসিকভাবে আর্থিক গোপনীয়তার জন্য পরিচিত। যদিও সম্প্রতি কিছু সংস্কার আনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা বেড়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত সাধারণত ৪৮ কোটি থেকে ৬৬ কোটি ফ্রাঁ'র মধ্যে সীমিত ছিল।

২০২৩ সালে আমানতের পরিমাণ কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁতে নেমে যায়। ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আমানত এক লাফে ৩৩ গুণ বেড়ে যায়।

অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ওপর বৈশ্বিক নজরদারি বৃদ্ধির কারণে ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁ'তে পৌঁছানোর পর ২০২২ সালে আমানত হঠাৎ কমে যায়।

গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের আমানতের পরিমাণ কমেছে। ভারতের আমানত কমে দাঁড়ায় ৩২ কোটি ৩১ লাখ সুইস ফ্রাঁ ও পাকিস্তানের আমানত কমে দাঁড়ায় ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ফ্রাঁ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংক্রান্ত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে অথবা এসব দেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে পাচার করা হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিসটিংগুইশড ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সুইস ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট থাকে। এর মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমানত ছাড়াও বাংলাদেশিদের অবৈধ অর্থ থাকতে পারে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না যে সেখানে আমানত বৃদ্ধির কারণ শুধু পাচার করা অর্থ।'

'তবে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে সুইস ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চাইতে পারে,' বলেন তিনি।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা খুবই জটিল ও কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বিশ্বব্যাপী পাচার অর্থ উদ্ধারের হার মাত্র ২ শতাংশের মতো। তা সত্ত্বেও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কারণ এতে অন্তত জড়িতদের ওপর চাপ তৈরি হয়।'

এদিকে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, 'হঠাৎ আমানত বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগের ফলে ধনীরা বিদেশে সম্পদ স্থানান্তরে উৎসাহিত হয়েছে।'