লক্ষ্মীপুরে স্কুল ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর মরদেহ: শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ২
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রাবাস থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক শরীফুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। ঘটনার সময় তিনি স্কুলটির হল সুপারের দায়িত্বে ছিলেন। শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পর আগের অধ্যক্ষকে অপসারণ করে তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার অপরজন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সাজিদুল। তিনি রামগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ভাটরা গ্রামের মাসুদুল ইসলাম মজুমদারের ছেলে।
পুলিশ গতকাল রোববার রামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রায়হান কাজেমী দুজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ১৬ জুন বিকেলে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, এক ছাত্রের ফোন চুরি যাওয়াকে কেন্দ্র করে মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গত ১৮ জুন তার বাবা বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নান ও সাতজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়।
এই ঘটনা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলে, ‘সন্দেহের বশবর্তী হয়ে’ সোমবার রাতে ছাত্রাবাসে উচ্চমাধ্যমিকের একদল শিক্ষার্থী মেহেদীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছিল।
বিবৃতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, ওই ঘটনার পর মেহেদী মানসিক চাপে ছিল। এ কারণে সে হয়তো আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ‘গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদেরকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’
