মিঠামইন বিএনপি সভাপতিকে হত্যার ঘটনায় ৩ ভাড়াটে খুনি আটক: পুলিশ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা থেকে আসা ৩ ভাড়াটে হামলাকারীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক ৩ জন হলেন—বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার মহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা জাহিদুল আলমকে। তাকে বাঁচাতে যাওয়া স্থানীয় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়ার (৩৮) ওপরও হামলা করা হয়। তিনি বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা থেকে যাওয়া ৩ ভাড়াটে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর মধ্যে হামলার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় একজনকে ঘটনাস্থল থেকে এবং পরে বিশেষ অভিযানে অপর দুজনকে বুধবার দিবাগত রাতে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে মিঠামইন সদর বাজার থেকে বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহিদুল। পাশেই বেড়িবাঁধ এলাকায় জাহিদুলের নিজ বাগানবাড়ির সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে থাকা ৩ হামলাকারী ধারালো চাপাতি দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মোটরসাইকেল চালক হাদিস মিয়ার ওপরও হামলা চালানো হয়।
গুরুতর আহত জাহিদুল ও হাদিস মিয়াকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, 'ঘটনার রাতে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকারীরা জানিয়েছে, তাদেরকে ভাড়া করে ৩ দিন আগেই মিঠামইনে নেওয়া হয়। ঢাকা থেকে আসা হামলাকারীরা ৩ জনই পেশাদার খুনি।'
'ঘটনার পেছনে হত্যার পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না,' বলেন তিনি।
হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছ পুলিশ।
নিহতের বড় ভাই তপন শিকদার বলেন, 'আমার ভাইকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।'