বগুড়ায় হেফাজতে আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি আত্মহত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বগুড়া

বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে হত্যা মামলার একজন সন্দেহভাজন আসামির মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, আসামি কার্যালয়ের টয়লেটের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে নিজের লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

নিহত আসামির নাম আসাদুজ্জামান আসাদ (২৫)। তার বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়ায়। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই ও চালককে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার বলেন, গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে আসাদকে বগুড়া রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার অটোরিকশাটি নিখোঁজ হয়। পরে ১ জুলাই নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, আজ সকালে নাশতা শেষে আসাদ ডিবি কার্যালয়ের টয়লেটে যান। দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় টয়লেটের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখেন। উদ্ধার করে বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, নিহতের গলায় ফাঁসের দাগ পাওয়া গেছে। শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, আসাদ সন্দেহভাজন আসামি ছিল। ডিবি পুলিশ মামলাটির ছায়াতদন্ত করছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় আজ বিকেল পর্যন্ত আসাদের পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, 'পরিবারের কারও সঙ্গে আসামির যোগাযোগ ছিল না। সে মূলত স্টেশনে স্টেশনে ঘুরে বেড়াত। আমরা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।'