এক রাতে ৩ গ্রামে ১২ গরু চুরি, আতঙ্কে নেত্রকোণার কৃষক

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোণা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ উপজেলার ধনু নদঘেঁষা তিনটি গ্রাম থেকে এক রাতেই ১২টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল রোববার দিবাগত রাতে এসব চুরির ঘটনা ঘটে।

দ্য ডেইলি স্টারকে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের হারারকান্দি ও সুলতানপুর গ্রাম থেকে ওই রাতে চার কৃষকের নয়টি গরু চুরি হয়েছে।

হারারকান্দি গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, তার বসতঘর ও গোয়ালঘর পাকা। চোরেরা বসতঘরের সামনের ও পেছনের দরজা রশি দিয়ে বেঁধে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিনটি গরু নিয়ে যায়।

একই গ্রামের কৃষক হায়দার হোসেন বলেন, গোয়ালঘরের দরজার বাঁধন কেটে চোরেরা দুটি গরু নিয়ে গেছে। আমার গোয়ালে মোট সাতটি গরু ছিল। বাঁধন কেটে দেওয়ায় অন্য গরুগুলো গোয়াল থেকে বের হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নিতে পারেনি চোরেরা।

সুলতানপুর গ্রামের সিরাজ মিয়া জানান, একই রাতে তার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়েছে। একই গ্রামের শামসু মিয়ার গোয়ালঘর থেকেও একটি গাভি চুরি হয়েছে।

চাকুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলু মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হারারকান্দি গ্রামের কৃষকদের পাঁচটি এবং সুলতানপুর এলাকার চারটি গরু চুরির ঘটনা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হয়েছি। বিষয়টি লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়িতেও জানানো হয়েছে। তবে এখনো ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ফাঁড়ির ইনচার্জ জানিয়েছেন, সেখানে সাধারণ ডায়েরি করা হয় না; জিডি করতে হলে খালিয়াজুরী থানায় যেতে হবে।’

লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, ‘গরুর মালিকেরা ফাঁড়িতে এসে জিডি করতে চেয়েছিলেন। তাদের খালিয়াজুরী থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরু চুরির খবর জানতে পেরে লেপসিয়া ফাঁড়ির পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ বছর হাওর এলাকার মানুষ এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে কৃষকদের গরু চুরির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা থানায় এলে তাদের অভিযোগ নেওয়া হবে। এরপর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।

এদিকে, একই রাতে মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলজুর ইউনিয়নের মান্দারোয়া গ্রামের কৃষক সুরে আলমের তিনটি গরু চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আজ বিকেলে মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গরু চুরির ঘটনায় একজন কৃষক অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার মিয়া জানান, দুই উপজেলার যে কয়টি গ্রামে ওই রাতে চুরি হয়েছে, সবগুলোই ধনু নদের পাড়ঘেঁষা। বর্ষাকালে চোরেরা নদের পাড়ের গ্রামগুলো থেকে গরু চুরি করে ট্রলারে করে নিয়ে যায়। কৃষকদের সতর্ক পাহারার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।