টাঙ্গাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘হঠাৎ’ গণঅভ্যুত্থানে হামলার মামলা

By নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল
2 January 2026, 14:42 PM
UPDATED 2 January 2026, 22:29 PM

২০২৪ সালের জুলাইয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার করা এই মামলায় আসামি করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে। হামলায় অর্থের জোগানদাতার অভিযোগ তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে সালাউদ্দিন আলমগীরকে মামলার আসামি করা হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকেই।

মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. সুজন মিয়া বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খাঁনের আদালতে হাজির হয়ে মামলার আবেদন করেন।

আবেদন আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক তাহারিম হোসেন সীমান্ত, তার ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী হুমায়ূন কবির, ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নালকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে সখিপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সদ্য পদত্যাগকারী সভাপতি নাসির উদ্দীন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সালাউদ্দিন আলমগীর এলাকার মানুষের কাছে একজন সহৃদয়বান ব্যক্তি ও দানবীর হিসেবে সুপরিচিত। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবার পর থেকেই একজন প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার লোকজন নানা কুৎসা রটনাসহ নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।'

'এরই অংশ হিসেবে অন্য প্রার্থীর এক কর্মীকে দিয়ে মিথ্যা এই মামলাটি করানো হয়েছে। ঘটনাটিকে সখিপুরের মানুষ চরম নোংরামি হিসেবে দেখছে এবং এতে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুন ইউসুফ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মামলার অভিযোগ সত্য-মিথ্যা যাই হোক, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এতদিন পর নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা যৌক্তিক বলে মনে করি না। অন্যদিকে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচারের পর এমন একটি মামলা সন্দেহ জাগিয়েছে।'

যোগাযোগ করা হলে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে আমাকে বিরত রাখার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হীন প্ররোচনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে।'

মামলার বাদি সুজন মিয়া গোরাই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। তবে, জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মনিরুল হক তা অস্বীকার করেন।

যোগাযোগ করা হলে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলাসংক্রান্ত আদালতের আদেশটি তারা এখনো পাননি।

দ্য ডেইলি স্টারকে ওসি মামুন বলেন, 'আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির মো. নাজমুল হাসান, খেলাফত মজলিসের মো. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন হাবিবুর রহমান খান কামাল ও এস এম হাবিবুর রহমান।