দ্বৈত নাগরিকত্ব: চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে ২ জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা।
আজ রোববার যাচাই-বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. এ কে এম ফজলুল হক ও কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে একই দলের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম
জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল এবং তা বাতিলের জন্য তিনি আবেদন করেছেন বলে দাবি করেছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, তিনি তার দাবির প্রমাণ হিসেবে কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ কারণে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ফজলুল হকের মার্কিন নাগরিকত্ব থাকলেও, তিনি গত ২৮ ডিসেম্বর জমা দেওয়ায় হলফনামায় দাবি করেছেন যে, তিনি তা ত্যাগ করেছেন।
বন্দরনগরীর কোতোয়ালী ও বাকলিয়া থানা এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ আসনটি চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত।
বিএনপি দক্ষিণ জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীসহ মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
কুড়িগ্রাম
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
এ ঘোষণার পরপরই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষের ভেতরে ও কার্যালয় চত্বরে জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এর আগে, গতকাল শনিবার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার। একইসঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত উপযুক্ত ও চূড়ান্ত প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার জন্য তাকে রোববার দুপুর পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন—এমন কিছু নথি জমা দিলেও নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সনদপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় প্রথমে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত এবং পরে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
জেলা রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রার্থী মাহবুবুল আলম যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত ই-মেইলের কপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কর্তৃপক্ষ থেকে নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ আমরা পাইনি। তাকে সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।'
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, 'আমাকে ডাকা হলেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রিটার্নিং অফিসার আগেই তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকলেও সেগুলো উপস্থাপনের সুযোগ পাইনি। আমি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।'
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা প্রার্থীকে ৩ দিন সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেননি। আইনের বিধান অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।'