গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সংশ্লিষ্ট কিছু অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিটির করা সুপারিশের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশও রয়েছে।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে যে প্রতিবেদনটি পেশ করেছেন, তাতে ওই ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি পুরোপুরি বাতিলের (রহিত করার) প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ১৬টি পর্যালোচনা করে পরে নতুন করে বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
১৩ সদস্যের এই বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠিত হয় ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের পাস করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনের পর। এই কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন সদস্যও রয়েছেন। কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে হয়। গত ১২ মার্চ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদিত না হয়, তবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে এবং বাকি ১৫টি অধ্যাদেশ কিছু সংশোধনের মাধ্যমে বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করেছে।
বিশেষ কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা ২০টি অধ্যাদেশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এসব নোট দেওয়া হয়েছে চারটি অধ্যাদেশ বলবৎ রাখা, দুটি সংশোধনের সুপারিশ, ১১টি বাতিল হতে যাওয়া কিন্তু পরে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুনরায় উত্থাপন করা এবং তিনটি বাতিলের প্রস্তাবের বিষয়ে।
প্রতিবেদনটি উত্থাপনের পর এবং আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাসের জন্য সুপারিশ করা পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে সংসদে উত্থাপন শুরু হবে।
সরাসরি বাতিলের সুপারিশ
যে চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি বাতিল করা হবে সেগুলো হলো- জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।
সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট) সংক্রান্ত এই তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগীয় পদ সৃষ্টি এবং বিচার বিভাগের উন্নয়নে সহায়তার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল।
এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির নিয়ন্ত্রণাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে বাজেট সংক্রান্ত ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। এই সচিবালয় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতাও সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হতো।
যদিও বিচারক নিয়োগের জন্য সংবিধান অনুযায়ী একটি আইন থাকা আবশ্যক, তবে এ ধরনের কোনো আইন এখন পর্যন্ত প্রণয়ন করা হয়নি।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ জারি করে। এর লক্ষ্য ছিল বিচারক নিয়োগের জন্য এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করা, যার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবেন।
এই অধ্যাদেশে বিধান রাখা হয়েছিল, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল (উচ্চতর বিচার বিভাগীয় নিয়োগ পরিষদ) সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের সুপারিশ করবে।
এর পাশাপাশি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অধস্তন (নিম্ন) আদালতের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় স্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করেছিল।
এই অধ্যাদেশের অধীনে, এই সচিবালয় অধস্তন আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে। এটি বিচারিক কাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা এবং ছুটির মতো বিষয়গুলোও ব্যবস্থাপনা করবে।
সচিবালয়ের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে থাকবে, আর এর সচিব প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সংসদ সদস্য উচ্চ আদালত সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশের ওপরই ভিন্নমত পোষণকারী নোট (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন।
কার্যকারিতা হারাচ্ছে আরও ১৬ অধ্যাদেশ
বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে, ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে অনুমোদন (র্যাটিফাই) করা হবে না। এসব অধ্যাদেশ পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল হিসেবে সংসদে পুনরায় উত্থাপন করতে পারবে।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধনী, একটি প্রস্তাবিত গণভোট আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত আইন এবং তথ্য অধিকার আইন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের লক্ষ্য ছিল, গুম প্রতিরোধ করা, তদন্ত করা এবং এর শাস্তি নিশ্চিত করা।
গুমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এই অধ্যাদেশে এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (জুলাই ন্যাশনাল চার্টার) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি গণভোট আয়োজনের উদ্দেশ্যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
জামায়াত উভয় অধ্যাদেশের ওপরই ভিন্নমত পোষণকারী নোট (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছে।
২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয় দুদকের তদন্ত ক্ষমতা বাড়ানো, সরাসরি মামলা দায়েরের সুযোগ, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধগুলো অন্তর্ভুক্ত করা এবং কমিশনের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে।
অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব সংগ্রহকে আলাদা করে বিদ্যমান কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করেছিল।
এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি আলাদা বিভাগ—রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশও জারি করা হয়েছিল।
সংশোধনীসহ পাস হতে যাচ্ছে যেসব অধ্যাদেশ
১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫; সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ, ২০২৫; জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা (ন্যাশনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট) অধ্যাদেশ, ২০২৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫; পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ; ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ; মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬; ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি জমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ; বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ; বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ; এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
এগুলোর মধ্যে, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সমাবেশ, মিটিং এবং প্রকাশনাসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান আনা হয়েছে। এটি জারি করার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আরও কী পরিবর্তন আনা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকার একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠনের লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশও জারি করেছিল। এই কমিশন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নিয়োগের সুপারিশ করবে এবং নাগরিকদের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ বা অভিযোগগুলোও সমাধান করবে। এই অধ্যাদেশও সংশোধিত আকারে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বিরোধী দল জামায়াত এর ওপরও ভিন্নমত পোষণকারী নোট (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছে।
অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হতে যাচ্ছে যেসব অধ্যাদেশ
বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং জনস্বার্থে প্রশাসক নিয়োগের বিধান সংবলিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশসহ মোট ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
জামায়াত এ বিষয়েও তাদের আপত্তি জানিয়েছে।
অন্যান্য অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ; আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ; নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ; গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ; সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ; জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের পরিবারের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ; জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ; জুলাই অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নিরূপণ) অধ্যাদেশ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত আরও বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ।
জুলাই অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায়মুক্তি) অধ্যাদেশটি জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের সেসব ক্ষেত্রে দায়মুক্তি দেয়, যেখানে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ওপর জামায়াত ভিন্নমত পোষণকারী নোট (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছে।
উদ্বেগ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাবেক সংসদীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলছেন, উচ্চ আদালতের সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হলে বিচার বিভাগকে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। এই পদক্ষেপগুলো ছাড়া নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগীয় নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতির ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে—যা ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতিকে ক্ষুণ্ণ করবে।
তারা আরও সতর্ক করেন, ১৬টি অধ্যাদেশ কার্যকর না করে সরিয়ে রাখলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান প্রধান সংস্কার কর্মসূচিগুলো স্থবির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি কার্যকারিতা হারাতে যাওয়া প্রায় সব অধ্যাদেশের ওপর বিরোধী দলের ভিন্নমত রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করার শঙ্কা রয়েছে।
এর ফলে সংস্কারের বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।