সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নতুন তফসিলের দাবিতে সমাবেশ
আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের একদল আইনজীবী।
গতকাল বুধবার বিকেলে 'বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি’র ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে তারা এ প্রতিবাদ জানান। বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা আগামী ১৩ ও ১৪ মে নির্ধারিত নির্বাচন বাতিলের দাবি জানান।
আইনজীবী এস এম এ সবুরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, জহিরুল হক, মো. জাহিদুল বারী, হুমায়ুন কবির ও আনোয়ারুল হক। সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আইনজীবীরা কোনো দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত যোগ্যতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু অনেক প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ভিন্ন মতাদর্শের আইনজীবীদের নির্বাচনে বাধা দিতে শক্তি প্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারা সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর বলেন, বর্তমান সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সকল আগ্রহী প্রার্থী যাতে অংশ নিতে পারেন, সেজন্য নতুন তফসিল ও তারিখ ঘোষণা করা প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট জাহিদুল বারী অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্ট বারে একতরফা ও স্বৈরাচারী পন্থায় নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে, যা দেশের সাধারণ আইনজীবীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, অধিকাংশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কেন বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা বারেও গণতান্ত্রিক রীতি লঙ্ঘন করে অনেককে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি। এমন একতরফা নির্বাচন বন্ধ করুন।
গত ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট বারের এক সাধারণ সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের প্রাধান্য থাকা ওই সভায় জানানো হয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল ৪২ জন আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে এসসিবিএ। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে ২ জন, সম্পাদক পদে ৭ জন ও কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জনসহ নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা রয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট বারের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নির্বাচন উপকমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির মঞ্জু জানান, অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।