পবিপ্রবিতে ভিসি অপসারণ দাবির কর্মসূচিতে হামলা, আহত ১০
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন ও কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। কর্মসূচিতে উপাচার্যের অপসারণ দাবি ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
এ সময় উপাচার্যের সমর্থনে শতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, বহিষ্কৃত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিপন শরীফের নেতৃত্বে বহিরাগতরা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ না পৌঁছানোর অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
পরে একই দাবিতে ও বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। টিএসসি চত্বর থেকে বের হওয়া মিছিলটি প্রশাসনিক ভবনের সামনের সড়ক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে বাউফল-দুমকি-বরিশাল সড়ক অবরোধ করে। এতে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে যোগ দিতে আজ সকাল ৮টায় ক্যাম্পাস থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। বহিরাগতদের হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন তারা।