নরসিংদীতে সংঘর্ষ: মেঘনা থেকে আরও ১ মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মেঘনা নদী থেকে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া আব্দুল লতিফ (৩৫) নামের ওই ব্যক্তির শরীরে পুলিশের বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরা ছিল।
এই নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়রা চারজন নিহত হওয়ার দাবি করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহত লতিফ নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে নিলক্ষ্যার দড়িগাঁও এলাকায় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন এবং আলাল মুন্সী গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আগে নাজিম উদ্দিন গ্রুপের প্রবাসী মামুন হত্যার পর এলাকাছাড়া ছিলেন মামলার আসামি আলাল মুন্সী ও তার লোকজন। গত মঙ্গলবার ভোরে আলাল মুন্সীর পক্ষ (জবা গ্রুপ) স্পিডবোটে করে বহিরাগত সশস্ত্র ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এলাকায় আধিপত্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সোনাকান্দি এলাকার বুলবুল (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার অনিক (২০)। এরপর গতকাল বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) নামের এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আজ উদ্ধার হলো লতিফের মরদেহ।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, নিলক্ষার ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে মেঘনা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ তিনজনের মরদেহ পেয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
