বেনজীরকে ফেরাতে আমিরাতের জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনও দেশটির তরফে কোন জবাব মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

আজ শুক্রবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে এবং আমাদের দূতাবাস সেগুলো আমিরাত সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এটাই সর্বশেষ অবস্থা। ইউএই সরকারের তরফ থেকে আমাদেরকে এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে আশা করি খুব শিগগিরই জানানো হবে।’

একসময় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ সম্প্রতি দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেপ্তারের বিষয়ে ই-মেইলে অবহিত করার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য আমিরাত প্রথমে বাংলাদেশকে ৩০ দিন সময় দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ তিন দিনের মধ্যেই সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে দেয়।’

বেনজীরের কাছে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট থাকার খবর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও আমিরাত সরকারের জবাবের অপেক্ষায় আছি। যতটুকু জানি, তিনি ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে আছেন। এর বাইরে আমাদের কাছে আর কোনো তথ্য নেই।’

গত ১৪ জুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুবাইয়ে বেনজীরের গ্রেপ্তারের তথ্য জানানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার তিন সন্দেহভাজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নথি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি এবং আশাবাদী যে তাদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাহলে তদন্ত শেষ করে যথাযথ অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে।’

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত থেকে সম্ভাব্য ‘পুশ ইন’ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজিবি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করছে। সীমান্তের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে তারা পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো বাংলাদেশি নাগরিক থাকলে তাদের তালিকা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।’

‘আমরা তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করব। যাচাই শেষে যথাযথ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে’, বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন জানান, পুশ ইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করা কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে আদালতের মাধ্যমে যথাযথ জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে, নতুন রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের কিছু রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকতে পারে। তারা বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দেখাতে চাইতে পারে, কিন্তু এ প্রক্রিয়া সঠিক নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ১০ হাজারের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। আমরা একজনকেও জোরপূর্বক ঢুকতে দিইনি। আমাদের বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’