ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংঘর্ষ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
আজ রোববার সকাল পৌনে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত চলে। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন অসংখ্য যাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়েনর সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জেরে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১০ গ্রামের সঙ্গে মানিকদহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার ৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কালাম পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এই ঘটনার জের ধরে আজ রোববার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী মৌজার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষের কারণে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুই পক্ষ আবারও পুকুড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষই একে অপরকে ইটপাটকেল মারে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় রাজনীতিবিদসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দীন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সকাল ৭টা থেকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু পরে সংঘর্ষকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।