ছুটি না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গতকাল শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে ও সখিপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই উপজেলার আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এ ঘটনার ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরেক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক আসাদ মিয়া উল্লেখ করেন, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেরিতে আসেন এবং প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি।
এতে আরও বলা হয়, গত ২ জুলাই সকালে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। তবে ওইদিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন ও জরুরি সভা থাকায় তাকে ছুটি না নিয়ে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান প্রধান শিক্ষক। এতে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন দেলোয়ার। পরে তার গলা চেপে ধরে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহীন আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, দেলোয়ার হোসেন ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শন থাকায় প্রধান শিক্ষক তাকে ছুটি দিতে পারেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন দেলোয়ার।
আরেক সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রধান শিক্ষক ও দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। ছুটি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার সন্তান অসুস্থ থাকায় ছুটি চেয়েছিলাম। ছুটি না দেওয়ায় উত্তেজনার মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। তখন মাথা ঠিক ছিল না। প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছেন।
প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, দেলোয়ার নৈমিত্তিক ছুটি চেয়েছিলেন। আমি তাকে সেদিন দায়িত্ব পালন করতে এবং পরে ছুটি নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করেন।
জানতে চাইলে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সিদ্দিক ডেইলি স্টারকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।