ধামরাইয়ে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যে সাজছে যশোমাধবের রথ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে ঢাকার ধামরাইয়ে।

আয়োজকরা জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ধামরাই বাজার থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত রথ টানার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হবে। ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টোরথ। এ উপলক্ষে ১৬ জুলাই থেকে এক মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলা বসবে।

প্রায় ৪০০ বছর আগে জমিদার শ্রী যশোপাল একটি ঢিবি খনন করে মন্দির ও দেবমূর্তি উদ্ধার করেন। পরে স্বপ্নাদেশে নিজের নামের সঙ্গে ‘মাধব’ যুক্ত করেন। সেই থেকে যশোমাধবের পূজা ও রথযাত্রার সূচনা, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলা ১২০৪ থেকে ১৩৪৪ সালের মধ্যে বালিয়াটির জমিদাররা (বর্তমানে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অবস্থিত) পর্যায়ক্রমে ৪টি রথ নির্মাণ করেন। ১৩৪৪ সালে নির্মিত প্রায় ৬০ ফুট উঁচু ত্রিতল রথটি দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়। পরে ২০১০ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পুরোনো রথের আদলে নতুন রথ নির্মাণ করা হয়।

প্রায় ৪০ জন শিল্পীর ৬ মাসের শ্রমে নির্মিত ৩৭ ফুট উঁচু ও ২০ ফুট চওড়া কারুকার্যমণ্ডিত রথটিতে রয়েছে ১৫টি লোহার চাকা, কাঠের ঘোড়া, সারথি ও বিভিন্ন স্তরে দেব-দেবীর মূর্তি।

রথে শেষ তুলির আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পী। ছবি: স্টার

প্রতিবছর রথযাত্রার আগে এর রঙ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হয়।

আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রথের কাঠামো ও দেব-দেবীর প্রতিকৃতিতে শেষ তুলির আঁচড় দিচ্ছিলেন শিল্পী সঞ্জয় পাল ও প্রদীপ চৌধুরী।

দ্য ডেইলি স্টারকে সঞ্জয় বলেন, ‘১১ বছর ধরে এ কাজ করছি। এটি শুধু পেশা নয়, ভালোবাসারও জায়গা।’

ধামরাই যশোমাধব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি নন্দ গোপাল সেন বলেন, ‘কাঠের কাজ শেষ, এখন রঙের কাজ চলছে। বৃষ্টি সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি শেষ হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আশা করছি উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে।’