প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারলেই গণতন্ত্র টিকবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রাম ও লড়াই হয়েছে। এই সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। দেশে নতুন একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনাটি হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করা।’

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি আজ এই কথা বলেন।

গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র যদি চলে, তবে বাকি কাজগুলো এমনিতেই হয়ে যায়। আমরা যদি প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ তৈরি করতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে। প্রশাসনকে যদি দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি, তবে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। আর সংসদের কমিটিগুলোকে যদি সক্রিয় ও কার্যকর করতে পারি, তবে গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সমস্যার শেষ নেই। সমস্যা থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, আন্দোলনও হবে—কিন্তু এর মধ্য দিয়েও যদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারি, তবেই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে পারব।

ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের অনেক সমস্যা। সমস্যার কোনো শেষ নেই। তার পরও দিন শেষে তাদের গণতন্ত্র টিকে যায়। টিকে যায় এই কারণে যে তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন, প্রশাসন দক্ষ এবং মিডিয়া শক্তিশালী।’

উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা বিষয় সব সময় ধরে রাখার চেষ্টা করবেন, আর সেটি হচ্ছে আইনের শাসন ও ইনসাফ। এ দুটিকে যদি ধরে রাখতে পারি, তবে সমাজকে অনেকটাই এগিয়ে নিতে পারব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশ কিছু সময় ধরে আমরা এই জায়গাগুলো থেকেই বঞ্চিত হয়েছি।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব পুরো ঠাকুরগাঁওকে একটি উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণ হয়েছে, মেডিকেল কলেজও হয়ে গেছে। শহরের চারদিক দিয়ে রিং রোড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা ঠাকুরগাঁও শহরের একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে চাই। এখানে একটি কালচারাল কমপ্লেক্স হচ্ছে।’

জলাবদ্ধতা দূর করতে রামদাঁড়া খাল খনন করে সেগুনবাগান সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে দারিদ্র্য বড় প্রকট, বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে। এখানে কোনো কলকারখানা নেই। আমরা এখানে শিল্পায়ন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইউসূফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ ফরিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ও আইনজীবী আবদুল হালিম প্রমুখ।