মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় দেয়নি জাতিসংঘ: ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় জানায়নি জাতিসংঘ।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) শুনানিতে এ কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং দলের সহযোগী সংগঠনের আরও ৬ নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম এমন বক্তব্য তুলে ধরেন।

শুনানিতে তামিম বলেন, 'আইসিটি আইন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে নেওয়া হলেই জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেবে বলে জানিয়েছিল।'

'এ কারণে আমরা জাতিসংঘের প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য পাইনি' উল্লেখ করে প্রসিকিউটর জানান, 'এর পরিবর্তে প্রসিকিউশন নিজস্ব অন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের হাজির করেছে।'

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তামিম জাতিসংঘের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, 'সেখানে এটাও বলা আছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।'

জানতে চাইলে প্রসিকিউটর গাজী তামিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছাড়াও সাক্ষীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে জাতিসংঘ তাদের পরিচয়কে সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বিবেচনা করে প্রকাশ করছে না।'

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

পলাতক থাকায় ৭ আসামির বিচারই তাদের অনুপস্থিতিতে পরিচালিত হচ্ছে।