নোয়াখালীতে অটোরিকশাচালককে তুলে নিয়ে গুলির অভিযোগ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে তুলে নিয়ে পায়ে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বর্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহত রাব্বি হোসেন রাকিব (২২) আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সোনাইমুড়ী গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।
রাকিব ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রাতে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার থেকে ভাড়া বাসায় ফিরছিলাম। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে পৌঁছালে একদল অস্ত্রধারী আমার অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে চুল্লার বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে আলমগীর, রাজন, রিপন ও আলম আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমার কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে ডান পায়ের হাঁটুর পাশে গুলি করে তারা পালিয়ে যায়।’
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রানা চৌধুরী বলেন, ‘বুধবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।’
রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে আসা স্থানীয় জুয়েল বলেন, ‘রাতে রাকিবকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাকিবের পায়ে এক্স-রে করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা জানান, তার পায়ের গোড়ালিতে বুলেট রয়েছে এবং এখানে তার অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
পরিদর্শক মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি।’
এর আগে ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন সোহেলকে গুলি করা হয়।
তারও আগে ৬ আগস্ট মধ্যরাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিএনপি নেতার সহযোগী ও ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াসিন সেন্টুর পেটের বাঁ পাশে লাগে। তিনি বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাবীবুর রহমান বলেন, ‘৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সোহাগের পরিচিত এক তরুণকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মারধর করেন। সোহাগ এর প্রতিবাদ করেন। এর জেরে রোববার সন্ধ্যায় সোহাগ বাড়ির দরজার সামনের সিঁড়িতে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় অস্ত্রধারীরা পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। দেশীয় অস্ত্র এলজি থেকে ছোড়া ছররা গুলিতে সোহাগ আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধে এ ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘গুলির ঘটনায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেও শনাক্ত করা যায়নি।’
পরিদর্শক আরও বলেন, ‘গত ৬ আগস্টের গুলির ঘটনায় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায়ও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এ এন এম ইমরান খান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পৃথক গুলির ঘটনাগুলো পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এসব ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বুধবার রাতের ঘটনাটি আদৌ গুলির ঘটনা কি না, তা নিয়েও পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’