রোহিঙ্গা সংকট দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে: সেনাপ্রধান
রোহিঙ্গা সংকট সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি এবং মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
তিনি জানান, সংকটপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাদক চোরাকারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।
ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে সনদপত্র বিতরণের পর তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, 'আপনার জেনেছেন রোহিঙ্গা ইস্যু কীভাবে আমাদের প্রভাবিত করেছে। ওই এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করা থেকে শুরু করে অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। মাদক চোরাকারবারসহ নানা ধরনের অপকর্ম সেখানে ঘটছে।'
এই কোর্সে আলোচিত মূল জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরেন।
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে জেনারেল ওয়াকার বলেন, 'আপনারা এসব বিষয়ের ওপর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। আমি মনে করি এগুলো আপনাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সাহায্য করবে।'
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ক্যাপস্টোন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান।
তিনি জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯ জন ফেলো এই কোর্সে অংশ নেন। তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ছিলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, এই কোর্সটি বিভিন্ন পেশা ও মেধার মানুষকে একসূত্রে গেঁথেছে, যা পরস্পরের মধ্যে আরও ভালো বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের পারস্পরিক সম্পর্ক দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।