ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যা: ৭ আসামি ১০ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল হত্যা মামলায় ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাতসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় আরও চার নারীকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর এ আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বন্দর থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১১ জনের বিরুদ্ধেই ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

১০ দিনের রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মামলায় প্রধান আসামি বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহিনের ছেলে শেখ সিফাত (৩২), কদমরসুল এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), একই এলাকার সুলাইমানের ছেলে মো. সিয়াম (২৫), বারপাড়ার রবিউল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), শাহী মসজিদের সোবাহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), চিতাশালের ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯), চৌধুরীবাড়ির সোহেলের ছেলে সিজান ওরফে জিসান (২৬)।

এছাড়া সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা (৩৬), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা ও শাহী মসজিদ এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিনকে (৪০) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলায় নিহত হন ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০)।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরদিন শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই ব্যবসায়ী বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট তিনি বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।

তিনি বলেন, মামলা করার পর থেকেই আসামিরা বুলবুলকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

এসপি মিজানুর রহমান বলেন, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগে তাদের একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী জুম্মনের বিরুদ্ধে নয়টি ও রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।