গুম প্রতিকার ও মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠক বর্জন বিরোধীদলের
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬ সংক্রান্ত বৈঠক বর্জন করেছেন।
আজ রোববার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শুরুর আগেই জামায়াতের দুই সদস্য বর্জনের ঘোষণা দেন।
তারা হলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ও ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন।
বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠক বর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, 'কমিটির সদস্য হিসেবে কোনো সংশোধনী বা মতামত থাকলে তা সভায় উপস্থাপন করা, পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিরোধিতা করার সুযোগ রয়েছে। এটিই কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব। তবে সভা থেকে ওয়াকআউট করা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।'
বৈঠকে বিলটি নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত ৬ মাসে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। একইসময়ে মব তৈরির চেষ্টা চললেও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি বলেও সভায় জানানো হয়।
মিরাজ শেখের অপহরণের দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ ধরনের দোষারোপের রাজনীতি বা ‘ব্লেম গেম’ পরিহার করা উচিত বলে সভায় মতপ্রকাশ করা হয়।
এর আগে, সকালে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬ সংক্রান্ত বৈঠক বর্জনের ঘোষণা দেন।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র নজিবুর রহমান বলেন, তারা বিলটির আলোচনা, পর্যালোচনা বা পাসের কোনো ধাপে আর অংশ নেবেন না এবং সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও উপস্থিত হবেন না।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'বিরোধী দলের সদস্যরা সকালে কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন বিলের আলোচনা বর্জন করেছেন।'
তিনি বলেন, 'আমরা এই বিলের ওপর আর কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেব না।'
স্থায়ী কমিটির তিন বিরোধীদলীয় সদস্য এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী, স্টেকহোল্ডার এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার একতরফাভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল করেছে।
তারা বলেন, অধ্যাদেশটি বাতিলের সময় সরকার আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইনের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তার বদলে সংসদে আরও দুর্বল ও সীমাবদ্ধ একটি বিল উত্থাপন করেছে।
তারা আরও বলেন, 'প্রস্তাবিত বিলটি গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনস, প্যারিস নীতি ও প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক সনদ ও ঘোষণার স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে না।'
এছাড়া, আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিকে মাত্র ২ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা স্টেকহোল্ডারদের সঠিক পরামর্শ ও বিলের স্বাধীন পর্যালোচনার সুযোগকে সীমিত করেছে।
দুটি বিলই গত বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থানীয় কমিটির বৈঠকে কমিটর সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম অংশ নেন।