৪০ ঘণ্টা পর শজিমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাসপাতালের উপপরিচালক মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
এর আগে, এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মবিরতিতে যান তারা।
সেদিন রাত ১০টায় হাসপাতালে মারা যান সদর উপজেলার আব্দুল মালেক (৫৫)। এরপর রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এরপর ৪ দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দাবি আদায় না হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ফেরত গেছে। প্যাথলজি বিভাগে কেউ কাজ না করায় ভোগান্তিতে পড়েন ভর্তি রোগীরাও।
পরে দুপুর ২টার পর থেকে চিকিৎসাসেবা চালু করেন ওয়ার্ডের নার্সরা।
শজিমেকের বহির্বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ইন্টার্ন ডাক্তাররা প্রথমে আজ সকাল ৯টার পরে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন। পরে তারা হাসপাতালের সব গেট বন্ধ করে ভেতরের সব সেবা বন্ধ করে দেন।'
পরে দুপুর ১২টার পর বগুড়ার জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
এরপর হাসপাতালের উপপরিচালক মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ সাংবাদিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কথা জানান।
তিনি বলেন, 'আশা করি তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই দাবিগুলো পূরণ হবে। নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ফাঁড়ি, হামলাকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বহিষ্কার, হাসপাতালের জনবল বৃদ্ধি ও অস্ত্রসহ আনসার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।'
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী ডেইলি স্টারকে জানান, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল বুধবার ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
