কাঁচপুর থেকে ৭-৮ ঘণ্টায় ফেরি যাবে ভোলায়

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা পর্যন্ত সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে কাঁচপুর ফেরিঘাটে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট থেকে এ রুটে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে ফেরি দুটি সাত থেকে আট ঘণ্টায় কাঁচপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ভোলা একটি দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। এর মধ্যে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে সরাসরি ফেরি সার্ভিস ভোলার মানুষের জন্য একটি প্রয়োজনীয় ও জনবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ফেরি সেবার মান ও সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আমরা আরও বিস্তারিত আলোচনা করছি। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকার সঙ্গে ভোলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

‘বর্তমানে এই রুটে দুটি ফেরি চলছে। যেহেতু এটি জনপ্রিয় একটি রুট হয়ে উঠছে এবং মানুষের চাহিদা রয়েছে, তাই এটি আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। মানুষের চাহিদা যেখানে রয়েছে, সেখানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি উদ্যোগকেও বিবেচনা করা হবে’, বলেন তিনি।

 

নৌপরিবহন খাতে গত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে জানিয়ে রবিউল আলম বলেন, বছরে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এর অন্যতম কারণ যাত্রী সংকট।

তিনি বলেন, নৌপথকে যাত্রীবান্ধব ও দূষণমুক্ত করা গেলে এ খাতে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। সড়কপথের সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে, বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাঁচপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত এ ফেরি সার্ভিস বিরতিহীন থাকবে। প্রতিটি ফেরির ধারণক্ষমতা প্রায় ২৮০ টন। পণ্যের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনেরও সুবিধা রয়েছে।

তারা আরও বলেন, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি এ ফেরি যোগাযোগ চালু হওয়ায় ভোলার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।