ধামরাইয়ে যুবলীগকর্মী ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার, আসকের নিন্দা
ঢাকার ধামরাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার বাবাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি বলেছে, একজনের দায় অন্য ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী।
গতকাল সোমবার আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুবলীগের কর্মী রিফাত আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তাকে না পেয়ে তার বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি ‘পেন্ডিং মামলায়’ গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সী কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতাও নন। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থক, এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আসক বলছে, পরিবারের একজন সদস্যকে না পেয়ে তার স্বজনকে গ্রেপ্তার করা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। একজন ব্যক্তির দায় অন্য ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ ও আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩২ অনুচ্ছেদে আইন অনুযায়ী ছাড়া কাউকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৯ অনুচ্ছেদেও নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক বা অন্য কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, আটক ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে।
আসক মনে করে, সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আচরণের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আসা প্রয়োজন। অতীতে যে ধরনের আটক, হয়রানি ও গ্রেপ্তারের সংস্কৃতি নাগরিকদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে, বর্তমান সরকারকে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আসক দাবি করেছে, মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ না থাকলে তাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে।
একই সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় বা কর্মকাণ্ডের কারণে অন্য সদস্যকে আটক, গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
