রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হকের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে হেনস্তা ও জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রামেবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোফাকখারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিরা প্রথমে উপাচার্যের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেন। এরপর একটি পদত্যাগপত্র বের করে সেটি না পড়েই তাকে সই করতে বাধ্য করেন। এ সময় উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল বাধা দিতে গেলে তাকেও হেনস্তা করা হয়।

নাজমুল জানান, জোর করে তার কাছ থেকেও একটি পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা দেখেন কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি খুলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, কার্যালয়ে অন্তত ২০ জন জোর করে ঢোকেন। এর আগে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে তাদের কয়েকজনকে দেখা গিয়েছিল।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘রাজনৈতিক মদদপুষ্ট স্থানীয় ঠিকাদার ও বহিরাগত কিছু লোক হঠাৎ জোর করে আমার কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। স্থানীয় ঠিকাদারদের বদলে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা আমাকে “আওয়ামী লীগের দালাল” আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে তারা জোর করে একটি পদত্যাগপত্রে আমার সই নেয়। এরপর আমাকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ ডেইলি স্টারকে বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা থানায় এসেছেন এবং তারা এখনো এখানে আছেন। অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।